সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩০ অক্টোবর, ২০১৫
"মুজাহিদ সাকা সহ যুদ্ধাপরাধীদের সরাসরি পক্ষ নেয়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনটি আসলে একটি মানবতাবিরোধী সংগঠন"
শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের "ধৃষ্টতাপূর্ন ও ন্যাক্কারজনক" বক্তব্যের প্রতিবাদে এক সমাবেশে এই কথা বলেন শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে লন্ডনে অ্যামনেস্টির প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে জানিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই সংস্থার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, "এটি একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন। এটি মানবাধিকার সংগঠন হতে পারে না। সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে সাধারণ মানুষকে হত্যা করলেও তারা কোনো ধরনের কথা বলে না বা তার প্রতিবাদ জানায় না। কিন্তু বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের শুরু থেকেই বিভিন্ন সময় এই ধরনের বিরূপ বিবৃতি দিয়ে আসছে এই সংগঠনটি।"
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। একই সাথে সেই সংগঠনের যারা বাংলাদেশে কাজ করছেন তাদেরকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারে দাবি করে প্রমাণ করলো এই সংগঠনটি আমেরিকা ও পাকিস্তানের পা চাটা সংগঠন। তারা চূড়ান্তভাবে তাদের মুখোশ উম্মোচন করলো এই বিবৃতির মাধ্যমে।’
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ শুনানির আগে ২৭ অক্টোবর গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এমনকি সেই বিবৃতিতে "একই অপরাধে" মুক্তিযুদ্ধাদের বিচার করা হচ্ছে না কেন উল্লেখ করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলি আহসান মুজাহিদের মুক্তি দাবি করে তারা।
তাদের সেই বিবৃতি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানায় সেক্টর কমান্ডার সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বেশ কয়েকটি সংগঠন।
অ্যামনেস্টির এই ‘ধৃষ্টতার’ প্রতিবাদ জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইমরান বলেন
“ দুই দিন আগে দেওয়া বক্তব্যে তারা যুদ্ধাপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সাকা ও মুজাহিদের মুক্তিই কামনা করেনি, যারা দেশকে স্বাধীন করেছে অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচারের দাবির ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এখন আর ঘুমিয়ে থাকলে হবে না। এমন বিবৃতির জোর প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে ঢাকায় অ্যামনেস্টির প্রতিনিধিকে ডেকে বলুন, এভাবে গণহত্যাকারীদের পক্ষাবলম্বন করলে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নাই।”
সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে শেষ হয় ওই মিছিল।
মিছিলে মঞ্চের নেতাকর্মীরা ‘অ্যামনেস্টির আয়োজন, জঙ্গিবাদের উৎপাদন’, ‘অ্যামনেস্টির কার্যক্রম, বন্ধ কর করতে হবে’, ‘পাকিস্তানের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
সোমবার লন্ডনে বিক্ষোভ
অ্যামনেস্টির এই বিবৃতির প্রতিবাদে সোমবার লন্ডনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে গণজাগরণ মঞ্চের যুক্তরাজ্য শাখা বিক্ষোভ করবে বলে মুখপাত্র ইমরান জানিয়েছেন ।
“সেখানকার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করবেন। প্রয়োজনে সারা বিশ্বব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাবে,” বলেছেন তিনি।