সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ নভেম্বর, ২০১৫
জাগৃতি প্রকাশনীর সত্বাধিকারী জঙ্গি হামলায় নিহত ফয়সাল আরেফিন দীপনের বাবা লেখক-চিন্তক ও কলামিস্ট আবুল কাশেম ফজলুল হক তাঁকে দেওয়া প্রাণনাশের হুমকির প্রেক্ষিতে বলেছেন ৭১ সালে আমি এরকমই নিরাপত্তাহীন বোধ করেছিলাম। আর আজ নিরাপত্তাহীন বোধ করছি।
তিনি বলেন, ‘এ দেশে কেউ বাসা বা কর্মস্থল কোনো স্থানেই নিরাপদ নন। আমিও নিরাপদ নই। নিরাপত্তা চেয়ে আমি থানায় জিডিও করবো না।’
বুধবার (৪ নভেম্বর) মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা।
দীপন হত্যার মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে তারা আমাকে কিছু জানায়নি।’
আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা গভীর সঙ্কটে আছি। এ সঙ্কট দিন দিন বেড়ে চলেছে। সঙ্কট উত্তরণের জন্য আমি ২৮ দফা বক্তব্য গত বারো বছর ধরে প্রচার করে আসছি। দেশের সুশীল সমাজ ও সরকার যদি এ দফাগুলোকে বিবেচনায় নেয় তাহলে সঙ্কট উত্তরণ সম্ভব। তবে রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না। এজন্য কাজ শুরু করা উচিত এখনই।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। পরবর্তীতে তিনি কমরেড সিরাজ সিকদারের সঙ্গে সর্বহারা পার্টি গঠন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের ‘সাদাদল’ প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখেন।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মুহাম্মদ আবদুল হাকিম ও জাহানারা খাতুন দম্পতির ছেলে আবুল কাসেম ফজলুল হক। স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ফরিদা প্রধান। তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক দলের প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের আপন বোন। হক ও ফরিদা দম্পতির ছেলে জাগৃতি প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপন ও মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক সুচিতা শারমিন।
উল্লেখ্য, নৃশংস জোড়া হামলা চালিয়ে রাজধানীতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে এবং শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল, রণদীপম বসু ও তারেক রহিমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।
হামলায় আহতরা এজন্যে জঙ্গি মৌলবাদীদের দায়ি করেছেন এবং আনসার আল ইসলাম নামের এক জঙ্গি সংগঠন এর দায় স্বীকার করেছে।
বেলা আড়াইটার দিকে লালমাটিয়ায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যখন চিকিৎসা চলছিল, তখন জানা যায় শাহবাগে আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটে আরেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপন।
দুটি ক্ষেত্রেই হামলার পর কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে যায় জঙ্গি মৌলবাদীরা।