সিলেটটুডে ডেস্ক | ১১ মার্চ, ২০২১
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসাছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাই কোর্ট। একইসাথে রোববারের মধ্যে প্রশাসনকে এ বিষয়ে হাই কোর্টকে জানাতে হবে বলে আদেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নুরউদ্দিনের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জানান, আদালতের নজরে আসার পর ওই ঘটনার সার্বিক বিষয়ে রোববারের মধ্যে জানতে চান হাই কোর্ট। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, শিশুর চিকিৎসাসেবা ও নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, ইত্যাদি বিষয় প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানাতে হবে।
এরআগে মঙ্গলবার মুহাম্মদ ইয়াসিন ফরহাদ (৮) নামের মাদ্রাসাছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। হাটহাজারী পৌর এলাকার কনক কমিউনিটি সেন্টারের কাছে মারকাজুল কুরআন ইসলামিক একাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াহিয়াকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করে। আটক করে তাকে নেওয়া হয় থানায়। মঙ্গলবার রাতে পিটুনির শিকার মাদ্রাসাছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি প্রতিকার না চেয়ে উল্টো লিখিতভাবে শিক্ষককে ছেড়ে দিতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়। এরপরই হেফাজতে রাখা শিক্ষককে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরে বুধবার আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, মারকাজুল কুরআন ইসলামিক একাডেমিতে ওই ছাত্র হেফজ বিভাগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে ওই ছাত্রের মা ছেলেকে দেখতে মাদ্রাসায় যান। বিকেল ৫টার দিকে চলে যাওয়ার সময় ছেলে মায়ের সাথে যেতে কান্নাকাটি করে।
একপর্যায়ে ছেলে কান্না করতে করতে মায়ের পিছু নিয়ে মাদ্রাসা থেকে ২০০ মিটার দূরে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের কনক কমিউনিটি সেন্টারের সামনে যায়। এসময় হুজুর হাফেজ মুহাম্মদ ইয়াহিয়াও পিছু গিয়ে ছাত্র ফরহাদকে ধরে নিয়ে মাদ্রাসায় নিয়ে আসতে থাকে। ছাত্র আসতে না চাইলে তাকে টেনেহিঁচড়ে মাদ্রাসায় নিয়ে এসে বেত দিয়ে নির্মমভাবে পিটাতে থাকে।
পেটানোর দৃশ্য সেখানকার এক স্কুলছাত্র মোবাইলে ধারণ করে। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। বিষয়টি দেখে রাত দেড়টার দিকে হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিন পুলিশ টিমসহ মাদ্রাসায় গিয়ে মাদ্রাসার হুজুরকে আটক করেন। এ সময় খবর দেওয়া হয় ছাত্র ফরহাদের পরিবারকে। পরে হুজুরকে ইউএনও'র কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌর এলাকা থেকে সেই মাদরাসাশিক্ষকে গ্রেপ্তার করে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।