Sylhet Today 24 PRINT

নির্যাতনের মুখে পুলিশের প্রস্তাবে ‘মুচলেকায়’ মুক্তিতে রাজি হন রোজিনা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২০ মে, ২০২১

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের ওপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল রয়েছে। সাত মিনিটের বেশি সময়ের ওই ভিডিওতে রোজিনা ইসলামের ওপর নির্যাতনের চিত্রও প্রকাশিত হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্যের মুচলেকা দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হন রোজিনা।

এদিকে, এই ভিডিওর কিছু খণ্ডিত অংশও অনেকেই প্রচার করছেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবল হাসান চৌধুরী নওফেল সাত মিনিটের ওই ভিডিওর চল্লিশ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ ফেসবুকে শেয়ার করেন যে ভিডিওর শিরোনাম দেন ‘ফাইল চুরির দায় স্বীকার প্রথম আলো সাংবাদিক রোজিনার’। উপমন্ত্রীর প্রচারিত এই ভিডিওতে প্রথম সাত ঘণ্টায় চার হাজারের বেশি লাইক পড়েছে, শেয়ার হয়েছে আট শতাধিক বার এবং কমেন্ট পড়েছে প্রায় এক হাজার। অধিকাংশ কমেন্টেই খণ্ডিত এই ভিডিওর সমালোচনা করা হয়েছে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সাত মিনিটের ওই ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায় একজন নারী রোজিনা ইসলামের গলা চেপে ধরেছেন। গলা চেপে ধরার কারণের উত্তরে ওই নারী বলেন, ‘আপনি সচিব স্যারকে ফোন দেন।’

জবাবে রোজিনা বলেন, ‘আমার ফোন ফেরত দেন’।

পাশে উপস্থিত এক নারী পুলিশ সদস্য তখন বলে ওঠেন, ‘না- ফোন দেওয়া যাবে না।’

রোজিনা বলেন, ‘সচিব মহোদয় আমাকে চেনেন। আমি শুনতে চাই তিনি আমার বিষয়ে কী বলেন। তার সাথে বিভিন্ন সংবাদের বিষয়ে আমার কথা হয়েছে।’

জবাবে ওই নারী পুলিশ সদস্য বলেন, ‘তাকে সচিব স্যারের কাছে নেওয়া যাবে না। সে ওখানে গিয়ে সিনক্রিয়েট করবে, একটা অসুস্থ মহিলা।’

উপস্থিত নারী রোজিনাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কী করেন? এখানে ঢুকলেন কিভাবে?’ জবাবে রোজিনা বলেন, ‘আমি প্রথম আলোতে কাজ করি।’ এরপর ওই নারী রোজিনাকে প্রথম আলোর সম্পাদককে ফোন করতে বলেন। নারী বলেন, ‘প্রথম আলোর সম্পাদক সচিব স্যারকে ফোন দেবে।’

এ সময় কোনো এক কর্মকর্তা উপস্থিত হলে ঘটনাস্থলে থাকা একজন পুলিশ তাকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, এই নারী কিছু কাগজ চুরি করেছেন এবং ছবি তুলেছেন। তার এগুলো এডিশনাল সেক্রেটারি স্যার ধরেছেন। তখন রোজিনা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে এর প্রতিবাদ করেন।

রোজিনা বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্য বিট কভার করি। প্রথমে আসছি টিকা দিতে। পরে এখানে এসেছি। আমার একটা সোর্স আছে, সে কিছু কাগজ দিয়েছে আমাকে। আমি চলে যাচ্ছিলাম। এসময় আমি পুলিশকে জিজ্ঞেস করেছি পিএস কী আছে? বলে নাই। আমি বললাম, তাহলে কি ভেতরে ঢোকা ঠিক হবে? সে বলল আপনি ভেতরে গিয়ে বসেন, অসুবিধা নাই।’

এ সময় মহিলা পুলিশ সদস্য বলেন, ‘পিআইডি কার্ড নিয়ে সে ঢুকছে। এই কার্ড আটকানোর সাধ্য কারও নেই। ২০০ টাকা দিলে এই কার্ড নীলক্ষেত থেকেও পাওয়া যায়। এই কার্ডের সত্য-মিথ্যা আমরা যাচাই করতে পারি না।’

রোজিনা ইসলাম বলেন, ‘আমাকে এই এডিসি ছাড়া সব এডিসি চেনেন। আমি কখনো কারও কোনো ডকুমেন্ট ধরেছি কেউ বলতে পারবে না।’

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একপর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্যের প্রস্তাব মেনে নিয়ে মুচলেকা দিতেও সম্মত হন রোজিনা ইসলাম। এরপরও তাকে আটকে রাখা হয়, এবং এরপর পুলিশের কাছে সোপর্দ করে তথ্য চুরির মামলা দেওয়া হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.