সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ জুন, ২০২১
লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইডের (এলএসডি) পর এবার দেশে উদ্ধার হয়েছে ডায়মিথাইলট্রিপ্টামাইন বা ডিএমটি নামের এক মাদক। এই মাদকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদের কাছ থেকে ৪০ ব্লুট এলএসডি, ৬০০ মিলিগ্রাম ডিএমটি, ৬২ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৬ জুন) রাতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার লাভ রোডে অভিযান চালিয়ে এলএসডি, ডিএমটিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব (২৯), মো. আব্রাহাম জোনায়েদ ওরফে তাহের (২৫), স্বপ্নিল হোসেন (২২) ও সিমিয়ন খন্দকার (২৩)। এদের দুজন বিদেশে লেখাপড়া করে এসেছেন। অপর দুজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
র্যাব বলেছে, দেশে প্রথমবারের মতো ডিএমটি উদ্ধার হলো। এলএসডির চেয়ে ভয়ংকর এই মাদক। এটা সেবনে হ্যালুসিনেশন হয়। এটি মুখ দিয়ে এলএসডি সেবনের মতো, যা ধোঁয়ার মাধ্যমে শ্বাস নিয়ে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়া যায়। এটি সেবনের পর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট গভীর হ্যালুসিনেশন হয়। হ্যালুসিনেশন হয় দ্রুত এবং সেবনকারীরা কল্পনার জগতে চলে যান। এই মাদক থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা, এমনকি জীবননাশও হতে পারে।
গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এলএসডি মাদকের সন্ধান পান গোয়েন্দারা। পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ১৫ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক ডাব বিক্রেতার ভ্যানে রাখা দা নিয়ে হাফিজুর নিজের গলায় আঘাত করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এলএসডি নামের মাদক সেবনের পর তিনি ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২–এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, এলএসডির মতো ডিএমটিও পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি রিসোর্ট বা কোনো বিনোদনকেন্দ্রে প্রকৃতির কাছে গিয়ে এই মাদক সেবন করতেন তারা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব রাজধানীর উত্তরার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ লেভেল করার পর ভারতে যান। দার্জিলিংয়ে ২০১৩ সালে ‘ও’ লেভেল শেষ করে। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ব্যবসায় প্রশাসনে (বিবিএ) পড়ার জন্য থাইল্যান্ডে যান। এক বছর থাইল্যান্ডে বিবিএ পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে এলএসডি ও ডিএমটি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। পরে বাংলাদেশে ফিরেও তিনি ওই মাদক সেবন ও সংগ্রহ করতে থাকেন। তিনি এই মাদক বিদেশ থেকে বিভিন্ন পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়ে আসেন। নিজে সেবন ও বিক্রি করতেন তিনি।
গ্রেপ্তার আব্রাহাম জোনায়েদও ঢাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ লেভেল শেষ করে মালয়েশিয়ায় যান। ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান। সেখানে তিনি নিয়মিত এলএসডি ও ডিএমটি সেবন করতেন। ইংল্যান্ডে এমবিএ শেষ করে ২০২০ সালে দেশে ফিরে আসেন। আব্রাহাম জোনায়েদ বাংলাদেশে এসেও নিয়মিত এলএসডি ও ডিএমটি সেবন এবং বিক্রি করছিলেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার স্বপ্নিল হোসেন ও সিমিয়ন খন্দকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন।
ঢাকায় নতুন নতুন মাদক ছড়িয়ে পড়েছে কি না, জানতে চাইলে র্যাব কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে এর আগে এলএসডি মাদক উদ্ধার হয়েছে। অতি উচ্চ মূল্যের এই মাদক মূলত উচ্চবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেবনকারীরা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেরাই মাদক সেবন করেন, বিক্রি করেন এবং নতুন নতুন মাদকগ্রহীতা তৈরি করেন, যা সমাজের জন্য খুবই আশঙ্কাজনক। এসব মাদকের উৎস এবং এর সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে ডিএমটি নামের এই মাদক এর আগে কখনো উদ্ধার হয়েছে বলে জানা যায়নি। প্রকৌশল বা রাসায়নিক গবেষণাগারেও এই মাদক তৈরি করা সম্ভব। এখন পর্যন্ত এলএসডি ও ডিএমটি নামের দুই ধরনের মাদক বিশেষ শ্রেণির হাতেই রয়েছে।
তারা নিজেরা পরিচিতদের মাধ্যমে ডিএমটি ও এলএসডি আমদানি করেন। কখনো নিজেরা গিয়েও নিয়ে আসেন। কুরিয়ার বা পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে চিঠি বা বইয়ের মাধ্যমে এগুলো সহজে নিয়ে আসা সম্ভব। এসব মাদক সহজলভ্য বা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে র্যাব নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।’