Sylhet Today 24 PRINT

সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান-এমডি ৪ দিনের রিমান্ডে

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১০ জুলাই, ২০২১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সজিব গ্রুপের কারখানা হাশেম ফুডসের ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ের আট কর্মকর্তাকে ৪ দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফাহমিদা খাতুন শনিবার বিকেলে আসামিদের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, আটক আট কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত চারদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।

ওই আট কর্মকর্তা হলেন সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম, তার ছেলে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিব বিন হাসেম, অন্য তিন ছেলে তারেক ইব্রাহিম, তাওসিফ ইব্রাহিম, তানজিব ইব্রাহিম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহান শাহ আজাদ, ডিজিএম মামুনুর রশীদ ও অ্যাডমিন প্রধান মো. সালাউদ্দিন।

ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন মজুমদার শনিবার দুপুর দুইটার দিকে এই আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে কারখানাটিতে আগুন লাগার পর শুরুতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরের দিন উদ্ধার করা হয় ৪৯ জনের মরদেহ। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে।

বেশির ভাগের মরদেহই পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা চলছে।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সারা দেশ এ ঘটনায় স্তব্ধ। একসঙ্গে এতজনের প্রাণহানি খুবই দুঃখজনক। প্রথমে তিনজন, পরবর্তী সময়ে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। ফায়ার সার্ভিস কিছু জীবিতদেরও উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত আটজনকে আটক করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এ ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কারখানায় কতজন লোক কাজ করত, সবই তদন্তে বেরিয়ে আসবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। আরও সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।

মামলা ও দোষীদের শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই মামলা হবে। এর সঙ্গে সামান্যতম দোষীদেরও আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। তবে তদন্তের আগে বিস্তারিত কিছু বলতে চাচ্ছি না। তদন্ত শেষে অবশ্যই তাদের বিচার হবে।’

কারখানায় আগুনে নিহতদের বেশির ভাগই শিশু। এতে শিশুশ্রমের বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। কারখানায় শিশুশ্রমের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কতজন শিশু শ্রমিক ছিল তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও পুরোপুরি নেভেনি। ভবনের সব কটি ফ্লোর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তীব্র ধোঁয়া এবং তাপ বের হচ্ছে। আছে উৎকট ঝাঁঝালো গন্ধ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি ছিটিয়ে ধোঁয়া নিবারণ এবং আবারও যাতে আগুন না লাগে, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ইউএনও ও ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে এখানে আসছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। ১৭ জনকে ছাদ থেকে বড় একটি মই দিয়ে রেস্কিউ করেছে ফায়ার সার্ভিস। সিঁড়িতে ও ছাদে তালা দেয়া ছিল কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.