নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ আগস্ট, ২০২১
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাজং নারী ধর্ষণে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং শেরপুরের শ্রীবরদীতে গারোদের ফসল কেটে ফেলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই সমাবেশের আয়োজন করে।
একই সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া গারো কিশোরী ধর্ষণে জড়িতকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি সমতলের আদিবাসীদের ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
সমাবেশে সংগঠনটি জানায়, গত ১২ আগস্ট শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ি অঞ্চলে সামাজিক বনায়নের জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তারা ৫টি গারো পরিবারের প্রায় কয়েক লাখ টাকার ফসল ও গাছ কেটে ফেলেছে।
সমাবেশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি গারো পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তাকে অপসারণ, আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমির অধিকার দেওয়াসহ মৌলভীবাজারের ডলুছড়া এবং সাহেবটিলার গারো ও খাসিয়াদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দেড় বছর ধরে এদেশের মানুষ করোনায় আক্রান্ত, দেশ বিপর্যস্ত, ঠিক এই সময়েও আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন, ভূমি দখল, নারীর উপর সহিংসতা থেমে নেই। আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো ভূমি সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের উচিত সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন কণা বলেন, ‘আদিবাসীদের উপর নিপীড়ন, ধর্ষণের কোনো বিচার হয় না। ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তার করা হলেও দুদিন পর ছাড়া পেয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর উপর নিপীড়ন ও ধর্ষণের জন্য দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নারীদের প্রতি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি সমানভাবে দায়ী বলে মনে করেন এই শিক্ষক।’
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই বলেন, ‘বন যেখানে আদিবাসী সেখানে। আদিবাসী যেখানে বনও সেখানে। যখন বনবিভাগ ছিল না তখন বন ভালো ছিল। কিন্ত যখন থেকে বন বিভাগ বন রক্ষার দায়িত্ব নিলো তখন থেকে বন উজাড় হওয়া শুরু হলো। যারা বনের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারাই আজকে বন ধ্বংস করে আদিবাসীদের নামে মিথ্যা বন মামলা দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।’
অবিলম্বে আদিবাসীদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান আদিবাসী যুব ফোরামের এই নেতা।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের নামে শেরপুরের শ্রীবরদীতে বনবিভাগ কর্তৃক গারো আদিবাসীদের জুমের ফসল কেটে ফেলায় প্রায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার সমপরিমাণ ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ৫টি আদিবাসী পরিবার। উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে অর্ধশতাধিক আদিবাসী পরিবার।’
এ ব্যাপারে তিনি রাষ্ট্রের কাছে যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ এরকম জঘন্যতম কাজে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট অফিসারকে দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু শেরপুরের ঘটনায় নয়, দেশের সিলেট, টাঙ্গাইল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামেও আদিবাসীদের উচ্ছেদের যড়যন্ত্র করছে বন বিভাগ।’
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাজং নারীক ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত রাশিদ মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সপ্তম শ্রেণী পড়ুয়া গারো কিশোরীর ধর্ষণকারী ফারুককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান এই আদিবাসী ছাত্রনেতা।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হাজংয়ের সঞ্চালনায় এবং বাংলাদেশ আাদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ’র সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বুশ নকরেক, বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ হাজং, কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক গৌর কোচ, হাজং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নাইম হাজং, গাসুর সতীর্থ চিরান, জিএসএফ এর লেবীয় ম্রং প্রমুখ।