Sylhet Today 24 PRINT

বরিশালকাণ্ড: অ্যাডমিন অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি ‘ভুল ছিল’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৩ আগস্ট, ২০২১

বরিশালে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার-ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে ইউএনও মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলা এবং সংঘর্ষের জেরে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া বিবৃতি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছে সংগঠনটি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিবৃতির বিষয়টি নিয়ে ভুল স্বীকার করেছে সংগঠনটি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সচিব ও পদস্থ কর্মকর্তারাও ওই বিবৃতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

সচিবালয়ে সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘গতকাল (রোববার) আমাদের একটা মিটিং ছিল, আমি যখন কথা বলেছি তখন সচিবরা যারা ছিলেন, অন্য কর্মকর্তারা যারা ছিলেন, সবাই এই বিবৃতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।’

ভুল স্বীকারের কোনো বিবৃতি না দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা তো অ্যাগ্রি করেছে এই জাতীয় ল্যাঙ্গুয়েজ ভুল ছিল।’

বিবৃতির ভাষা নিয়েও কর্মকর্তারা আপত্তি করেছেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বলেন, ‘এই ল্যাঙ্গুয়েজ, এটা হওয়া উচিত ছিল না। এটা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের যারা ছিলেন, তারাও অ্যাগ্রি করে গেছেন। এই জাতীয় ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজ করা ওয়েলকাম করা যায় না।’

ব্যানার অপসারণ নিয়ে গত বুধবার রাতে বরিশাল সদরের ইউএনও মু‌নিবুর রহমানের সঙ্গে সি‌টি করপোরেশনের প্রশাস‌নিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের কথা-কাটাকা‌টি হয়।

প্রশাস‌নিক কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ সময় ইউএনওর সঙ্গে বিবাদে জ‌ড়িয়ে পড়েন।

এ সময় আনসার‌ সদস্যদের সঙ্গে হাতাহা‌তি শুরু হলে আওয়ামী লী‌গ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ইউএনওর বাসায় হামলার চেষ্টা চালান। আনসার সদস্যরা গুলি ছুড়লে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসসহ চারজন আহত হন।

সংঘর্ষের পর সদর ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে পুলিশ অবস্থান নিলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আবার ইউএনওর বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় পু‌লিশ ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে বরিশালের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর গ্রেপ্তার দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তার অনুসারীদের ‘দুর্বৃত্ত বাহিনী’ উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়রকে ‘অত্যাচারী’ বলা হয়েছে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সংগঠন যে ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক জেবউননেছা এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম ফিরোজ উল হাসান।

ঘটনাটি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা থাকলেও তিনজনই একমত যে, এ ধরনের বিবৃতি আসা কাম্য ছিল না প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক বিবৃতির মতো হয়ে গেছে এটি। কিন্তু যারা প্রশাসন চালাবেন, তারা আগেভাগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন না। আবার রাজনৈতিক নেতাদের মতো বহুল প্রচলিত ভাষা ব্যবহার করে কাউকে নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত করাও উচিত নয়।

অ্যাডমিন অ্যাসোসিয়েশনের এই বিবৃতিতে প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সুসম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলে জানায় বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ। এই বিবৃতিকে ‘চটজলদি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ।

তুমুল সমালোচনার মধ্যে বিবৃতিটির বিষয়ে ভুল স্বীকার করল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.