Sylhet Today 24 PRINT

উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলায় লঙ্ঘিত হচ্ছে বনবাসীর অধিকার

গারো পাহাড় পরিদর্শন শেষে নাগরিক প্রতিনিধি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক: |  ২৬ আগস্ট, ২০২১

শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকার বালিজুরিতে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুব্ধ নাগরিক প্রতিনিধি দলের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন ফারহা তানজীম তিতিল

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শিমূল ইউনিয়নের বালিজুরি গ্রামে মান্দি পরিবারের সবজি ও সুপারি বাগান কেটে ধ্বংস করার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি দল। সোমবার ঢাকা থেকে প্রতিনিধি দলটি গারো পাহাড়ের আশপাশের ওই এলাকা পরিদর্শন করে। মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বালিজুরিতে সংবাদ সম্মেলন করে।

গত ১২ আগস্ট বনবিভাগের লোকজন ভূমি উদ্ধারের নামে পাঁচটি মান্দি পরিবারের দেড় একর জমির সবজি ও সুপারি বাগান কেটে ধ্বংস করে ফেলে। বনবিভাগের এ আচরণে ক্ষুব্ধ আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-তত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফারহা তানজীম তিতিল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের ভূমি ও আইন সম্পাদক উজ্জল আজিম, আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমা, আদিবাসী ছাত্র নেতা অলিক মৃ, অ্যাডভোকেট বুলবুল আহমেদ, শেরপুর জনউদ্যোগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ ও শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন। ঘটনাস্থল বালিজুরির খ্রিষ্টান পাড়া গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে বালিজুরি রেঞ্জ অফিসে জেলা বন সংরক্ষক প্রাণতোষ রায়সহ বনবিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ ও শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তারের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং তাদের উচ্ছেদ করা হবে না।

শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারহা তানজীম তিতিল বলেন, ‘বালিজুরির খ্রিষ্টান পাড়ায় উচ্ছেদ অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও আমরা দেখেছি মধুপুরে বাসন্তি রেমার কলা ক্ষেত কেটে দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্র যখন মানুষকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় তখন এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তাদের এ উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলায় লঙ্ঘিত হচ্ছে বনবাসীর অধিকার। কথিত সামাজিক বনায়নে আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব না থাকায় তাদের রুটি-রুজির পথ বন্ধ হয়ে গেছে।’

জোবাইদা নাসরীন বলেন, ‘পরিদর্শনকালে আমাদের মনে হয়েছে, বালিজুরিতে আদিবাসীদের উচ্ছেদের চক্রান্ত হচ্ছে।’ এ ঘটনার জন্য দায়ী বনবিভাগের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে ৯টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস। এদের মধ্যে মান্দি (গারো), কোচ, হাজং, বর্মণ, ডালু, হদি, বানাই ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। বংশপরম্পরায় তারা শত শত বছর ধরে পাহাড়ি জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.