নিউজ ডেস্ক | ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে নভোথিয়েটার মামলার সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অব্যাহতিপ্রাপ্ত এ আসামিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আছেন।
মামলা হওয়ার ১৩ বছর পর দুদকের অনিষ্পন্ন শাখায় পড়ে থাকা নভোথিয়েটার দুর্নীতিসংক্রান্ত তিনটি মামলার সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে কমিশন। গত ২৯ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মঞ্জুর মোরশেদ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দাখিলের জন্য জিআরওর দপ্তরে এ প্রতিবেদন জমা দেন বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জানান- মামলা তিনটি দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছিল। তা ছাড়া উচ্চ আদালত এ মামলায় প্রধানমন্ত্রীর অংশ খারিজ করে দিয়েছেন। আরও কয়েকজনও উচ্চ আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। আদালত বলেছেন, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে এতে কোনো সত্যতা না পাওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি কমিশন আদালতে পাঠিয়েছে।
২০০২ সালের ২৭ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো। পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাদী হয়ে একটি এবং দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা (এন্টি করাপশন অফিসার) খান মো. মীজানুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্প বিষয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের (একনেক) সিদ্ধান্তকে আমলে নিয়ে মামলাগুলো করা হয়। একনেকের সিদ্ধান্তগুলো ছিল—প্রকল্পের পরামর্শকের ব্যয় বৃদ্ধি, ভবন নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যয় বৃদ্ধি।
তিনটি মামলায়ই শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় যথাক্রমে ৭ জন, ৮ জন এবং ১২ জনকে।
মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক মারা গেছেন। আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মহীউদ্দীন খান আলমগীর অভিযোগের দায় থেকে উচ্চ আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার পর থেকেই শেখ হাসিনা এবং অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন আইনি লড়াই করেছেন। ব্যুরো থেকে কমিশন হওয়ার পর ২০০৫ সালের ২৪ আগস্ট বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের কমিশন মামলাগুলোর অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনা আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের ৪ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। এ সময় মামলা সম্পর্কে আদালত বলেন, নভোথিয়েটার দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনাকে হয়রানি এবং হেয় করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল।
অভিযোগ সম্পর্কে আদালত বলেন, অভিযোগগুলো ফৌজদারি আইনের কোনো বিধানের আওতায় পড়ে না। মামলা চললে বিবাদী আরও হয়রানির সম্মুখীন হবেন। আদালত পর্যবেক্ষণে এ–ও বলেন, মামলার নথিপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর দুদকের ওই তিন মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। পড়ে ছিল দুদকের অনিষ্পন্ন শাখায়। একানে পড়ে থাকা ব্যুরোর আমলের মামলাগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনটি মামলা পুনঃতদন্তের জন্য উপপরিচালক মঞ্জুর মোরশেদকে দুদকের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ডিসেম্বর মাসে তিনটি মামলারই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন শেখ হাসিনাসহ এজাহারভুক্ত সব আসামিকে।