Sylhet Today 24 PRINT

আপিল বিভাগে জাপানি দুই শিশু

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১

দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পৌঁছেছে। সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তাদের বাবা ইমরান শরীফ শিশুদের নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। কিছুক্ষণ পর আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি হবে।

এদিন সকালে জাপানি ওই দুই শিশুকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে আপিল বিভাগে হাজির করতে নির্দেশ দেন আদালত। জাপানি মায়ের আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। শিশুদের বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

আপিল বিভাগের আদেশ থাকা সত্ত্বেও দুই শিশুকে হস্তান্তর না করায় শিশুদের বাবা ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন জাপানি মা নাকানো এরিকো। সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়।

এর আগে দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) ও মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) জাপানি মায়ের জিম্মায় রাখতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আগামী বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে গত রোববার (৫ ডিসেম্বর) আপিল করেন জাপানি মা নাকানো এরিকো। এর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ রোববার এই আদেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী, এদিন রাত ১০টা থেকে মায়ের সঙ্গে থাকবে দুই শিশু। পরবর্তীকালে ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় আপিল বিভাগে হাজির হতে বলেছেন আদালত।

এর আগে গত ২১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দেন হাই কোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, জাপান থেকে এসে তাদের মা বছরে তিনবার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের এই তিনবার আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ বহন করবে। এর বাইরে যদি তিনি বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেন তাহলে তার ব্যক্তিগত খরচে করতে হবে। এ ছাড়া ছুটির দিনে অন্তত দুবার বাবা সন্তানদের মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন।

এ ছাড়া আদালত বলেন, গত কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতায়াত খরচ বাবদ শিশুদের মা নাকানো এরিকোকে ১০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছিল ইমরান শরীফকে।

রায়ে আদালত বলেন, রিটটি চলমান থাকবে। রিটটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্য কোনো আদেশের জন্য আদালতে উভয়পক্ষ আসতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবেন। প্রতি তিন মাস অন্তর শিশুদের বিষয়ে হাই কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।

২০০৮ সালে জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো ও বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানি আইন অনুযায়ী বিয়ে সেরে টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। তাদের ১২ বছরের সংসারে তিন কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তারা তিনজনই টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের শিক্ষার্থী ছিল।

২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি শরীফ ইমরান-এরিকোর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২১ জানুয়ারি ইমরান আমেরিকান স্কুল ইন জাপান কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু এতে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর একদিন জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা স্কুল বাসে বাড়ি ফেরার পথে বাসস্টপ থেকে ইমরান তাদের অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

গত ২৫ জানুয়ারি শরীফ ইমরান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছ থেকে মেয়েদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে মেয়েদের নিজ জিম্মায় পেতে আদেশ চেয়ে গত ২৮ জানুয়ারি টোকিওর পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের সঙ্গে এরিকোর সাক্ষাতের অনুমতি দিয়ে আদেশ দেন।

কিন্তু ইমরান আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে দুই মেয়েকে সাক্ষাতের সুযোগ দেন। এরপর গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে’ ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে নিয়ে তিনি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

গত ৩১ মে টোকিওর পারিবারিক আদালত জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে তাদের মা এরিকোর জিম্মায় হস্তান্তরের আদেশ দেন। তবে দুই মেয়ে বাংলাদেশে থাকায় বিষয়টি নিয়ে তিনি বাংলাদেশের একজন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেন। এরপর গত ১৮ জুলাই তিনি শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন।

বাংলাদেশে এসে এরিকো করোনা পরীক্ষা করালে তার রিপোর্ট নেগেটিভ থাকার পরেও ইমরান ওই রিপোর্ট অবিশ্বাস করে সন্তানদের সঙ্গে তাকে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানান। গত ২৭ জুলাই এরিকোর মোবাইল সংযোগ বন্ধ করে চোখ বাঁধা অবস্থায় মেয়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় দুই মেয়েকে নিজের জিম্মায় পেতে হাইকোর্টে রিট করেন জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.