Sylhet Today 24 PRINT

তিন মাস ধরে কক্সবাজারে ছিলেন ‘ধর্ষণের শিকার’ সেই নারী: পুলিশ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ অভিযোগ তোলা নারীকে মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম মোটরসাইকেলে তুলে হোটেল জিয়া গেস্ট ইনে নিয়ে যান বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এর আগে ওই নারী র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে তাকে অটোরিকশায় তুলে ওই হোটেলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। হোটেলে নেয়ার আগে একটি ঝুপড়ি চা-এর দোকানের পেছনে এক দফা ধর্ষণ করা হয়। পরে হোটেলে আবারও ধর্ষণের শিকার হন তিনি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে শুক্রবার বিকেলে ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই ট্যুরিস্ট পুলিশের ছায়া তদন্ত চলছিল, এখনও অব্যাহত আছে।

‘এখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, ভিকটিম তিন মাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন। আসামি আশিক, বাবু উনার পূর্বপরিচিত এবং স্বামী-সন্তানসহ তিনি বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছিলেন।’

বুধবার রাতের ঘটনা নিয়ে অভিযোগকারী নারী ও তার স্বামী মামলার তদন্তকারীদের কাছে বিস্তারিত জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন এসপি জিল্লুর।

তিনি বলেন, ‘উনাকে (ওই নারীকে) যখন আশিক মোটরসাইকেলে নিয়ে যায়, মেইন রোড দিয়ে যায়। সেখানে অনেক লোকজন ছিল। তিনি বাইকের পিছনে বসা ছিলেন, কিন্তু তিনি কোনো চিৎকার- চেঁচামেচি কিছু করেননি।’

৯৯৯ এ কল করেও ওই নারী সাড়া পাননি কেন জানতে চাইলে ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি দাবি করেন এ ধরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, ‘৯৯৯- এ ফোন করে বা পুলিশকে ভিকটিম কোনো তথ্য দেননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সংস্থাকে (র‍্যাব) তিনি ও তার স্বামী ফোনে তথ্য দিয়েছেন।

‘ভিকটিমকে যখন আশিক নিয়ে যান, সে সময় ভিকটিম তার একটা পারসোনাল কাজে সি টাউন হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তার স্বামী অবস্থান করছিলেন অন্য একটি হোটেলে। ভিকটিমের তথ্য অনুযায়ী, তার স্বামীকে ফোন করে আশিক চাঁদা চেয়েছিলেন। চাঁদা না দেয়ায় আশিক তার ওয়াইফকে রেপ করার হুমকি দেন। এরপর তার স্বামী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থাকে ফোন দেন।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে যে সব অভিযোগ আসছে তা সমাধানে আমরা কাজ করছি। নারীকে ধর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’

‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীর স্বামী চারজনের নাম উল্লেখ ও তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলায় নাম উল্লেখ করা চার আসামি হলেন, কক্সবাজার শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকার আশিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ শফি ওরফে ইসরাফিল হুদা জয় ওরফে জয়া, মেহেদী হাসান বাবু ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন।

পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত আশিকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই, ইয়াবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৬টি মামলা আছে। তার অন্যতম সহযোগী জয়ার বিরুদ্ধেও দুটি মামলা আছে। তারা মূলত কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তাদের গ্যাংয়ে অর্ধশতাধিক সদস্য রয়েছেন। তারা গ্রেপ্তারও হয়েছেন একাধিকবার।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.