সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজন মনির হোসেন ঝালকাঠির সদর থানায় লঞ্চের মালিক, চালকসহ ৮ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপারেশন) মো. মালেক মামলার দায়েরের ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজদের স্বজন ঢাকার ডেমরা এলাকার মনির হোসেনের অভিযোগ মামলা হিসেবে নেয়া হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ, লঞ্চে থাকা ২ মাস্টার রিয়াজ সিকদার ও মো. খলিল, দুই ড্রাইভার মো. মাসুম ও কালাম, সুপারভাইজার মো. আনোয়ার, সুকানী আহসান এবং কেরানী কামরুলকে।
মামলা বাদী মনির হোসেন বলেন, আগুনের ঘটনায় লঞ্চে থাকা যাত্রী তার ৩২ বছর বয়সী বোন তাসলিমা আক্তার, দুই ভাগনী ১৫ বছরের সুমাইয়া আক্তার মীম ও ১০ বছরের সুমনা আক্তার তানিশা এবং ৭ বছর বয়সী ভাতিজা জোনায়েদ ইসলাম বায়জিদ এখনো নিখোঁজ আছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রাতে লঞ্চের ইঞ্জিনের অস্বাভাবিক শব্দ শুনে যাত্রীরা স্টাফদের কাছে এর সম্পর্কে জানতে চান। তখন তারা একটি ইঞ্জিনের ত্রুটির কথা জানান। তখন লঞ্চটি অস্বাভাবিক গতিতে চলছিল। একটি ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হলে যাত্রীরা লঞ্চের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কূলে ভেড়ানোর জন্য বার বার অনুরোধ করলেও তারা ভাড়া তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারা যাত্রীদের বার বার বলতে থাকে যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, ভয় নাই। কিন্তু আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। পুড়ে যাওয়া লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, লঞ্চটিতে অন্তত ৪০০ যাত্রী ছিল।
তবে লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে দাবি, নৌযানটিতে যাত্রী ছিল ৮০০ থেকে এক হাজারের মতো।
এদিকে গত ২৫ ডিসেম্বর একই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ছাড়া একটি মামলা হয় রাজধানীর মতিঝিলের নৌ আদালতে। সে মামলায় লঞ্চের মালিক হামজালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।