নিউজ ডেস্ক | ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে চলমান নাশকতার মূল টার্গেট ক্রমে রূপান্তর হচ্ছে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসগুলো। আন্দোলনের গতপ্রকৃতির দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমার মত বর্বর হামলা বেড়েই চলেছে। ফলে বাড়ছে প্রাণহানি।
নাশকতাকারীদের মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছে এসব পরিবহন। বাদ যাচ্ছে না পণ্যবাহী যানবাহনও। ফলে বাড়ছে প্রাণহানি আর আগুনে জ্বলছে সাধারণ মানুষ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রহরায় যেসব বাস চলছে সেগুলো নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। কিন্তু মহা-সড়কগুলোয় বিচ্ছিন্নভাবে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
এই পরিস্থিতিতে নৈশ কোচের জানালা বন্ধের ও মোটা পর্দা লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি। এদিকে চলমান অবরোধ, হরতালে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও গাড়িতে আগুন দেয়ার আশঙ্কায় যাত্রী সংখ্যাও কমে গেছে। প্রয়োজনীয় যাত্রী না পাওয়ায় শিডিউল রক্ষা করে গাড়ি ছাড়তে পারছেন না পরিবহন সংস্থাগুলো। এতে ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে গণপরিহন ও পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রমতে, ৬ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩০ দিনে বিএনপির ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও হরতালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কে চলা সহস্রাধিক যানবাহনে পেট্রলবোমা, ককটেল ও অগ্নিসংযোগসহ নানাভাবে হামলা চালিয়েছে অবরোধের সমর্থক সন্ত্রাসীরা। অধিকাংশ ঘটনা শুরু হয় বিকাল থেকে, চলে গভীর রাত পর্যন্ত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের পুলিশ ধরতে পারছে না। যে কারণে সন্ধ্যার পর মানুষ নিজেকে আর নিরাপদ ভাবতে পারছে না। এ সময়ে সারাদেশে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ৫৭৯টি যানবাহন। এরমধ্যে সিংহভাগই যাত্রীবাহী বাস। এরমধ্যে পেট্রোল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ১৪৬টিতে। ভাংচুর করা হয়েছে ৩৬৪টি। নিহতের সংখ্যা ৪০। এরমধ্যে পরিবহন শ্রমিক ১৭ জন। বাকিদের সিংহভাগই বাস যাত্রী।
এ দিকে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হরতাল-অবরোধে সারাদেশে গণপরিহন ও পণ্য পরিবহন মিলিয়ে এ খাতে প্রতিদিন প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। পণ্য পরিবহনের ২শ’ কোটি টাকা এবং গণপরিবহনের ১শ’ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে।
দেশের নানা স্থান থেকে যাত্রীবাহী বাস সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঢাকায় যাওয়া-আসা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজারসহ বিভিন্ন মহাসড়কে বাস ও ট্রাককে নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে।
পুলিশও রাজধানী থেকে বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছে হাইওয়ে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টিত যানবাহনের বহরের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য যানবাহনও চলাচল করেছে। তবে যেসব পরিবহন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে চলাচল করছে সেই সব পরিবহনই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দেয়ার ঘোষণার পরও কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পাচ্ছে না পরিবহনগুলো। যাত্রীর অভাবে শিডিউলও ঠিক নেই। হরতালে নাশকতা ও গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনার আশঙ্কায় যাত্রী কমে গেছে বলে পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রয়োজনীয় যাত্রী না পাওয়ায় অনেক রুটে তারা গাড়ি ছাড়তে পারছেন না বলে জানা যায়।