সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচনী সহিংসতার ব্যাপকতা ভয়াবহ ছিল বলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে। এ সময় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় অন্তত ২৯ জন নিহত ও ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে বলে সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জানুয়ারিতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে অন্তত ১০৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে সোমবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে জানানো হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনায় করে দেখা গেছে যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অনেকটাই কমেছে। এছাড়া, ধর্ষণসহ নারী ও শিশুদের উপর সহিংসতার ঘটনা কিছুটা কমলেও উদ্বেগজনক ছিল।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে মত প্রকাশের অধিকার বন্ধ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হুমকি ও হামলা, পুলিশ ও কারা হেফাজতে মৃত্যু, সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা, সীমান্তে হতাহতের ঘটনাও বেড়েছে।
তবে এ সময়ে নির্বাচনী সহিংসতার ব্যাপকতা ভয়াবহ ছিল বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এ সময়ে নিহত ২৯ জনের মধ্যে ১ জন প্রতিপক্ষের গুলিতে ও ৪ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মারা গেছে। সবচেয়ে বেশি বগুড়া জেলায় নিহত হয়েছেন ৭ জন। এরপর ঝিনাইদহ জেলায় ৫ জন, চাঁদপুর জেলায় ৩ জন ও নরসিংদীতে ২ জন নিহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্বল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মনোনয়ন বাণিজ্য পুরো রাজনীতিকে দুর্বৃত্তায়িত করে তুলেছে। এতে করে যে কোনো সময়ের তুলনায় এবারের উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সব মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
সংস্থাটি জানায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত ৯২ জন নিহত এবং আরও ৪ হাজার জন আহত হয়। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাওয়া ও বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্যের লড়াইয়ে এসব সহিংসতা হয়েছে। ফলে এগুলো ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
'৫ দফা নির্বাচনে মানুষের মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এড়াতে পারে না,' বিবৃতিতে বলা হয়।