Sylhet Today 24 PRINT

শান্তিগঞ্জের ২৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৭টিতে নেই শহিদ মিনার

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ |  ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস। দিনের প্রথম প্রহরে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও গভীর শোক প্রকাশ করবেন দেশবাসী। এদিন শান্তিগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেও অধিকাংশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন কলাগাছ, বাঁশ অথবা কাগজের তৈরি শহিদ মিনারে।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না থাকায় প্রতিবছর এভাবেই জাতির স্মরণীয় ও বরণীয় সন্তান ভাষা শহিদদের প্রতি সম্মান জানান তারা। এতে যেমন কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীর কাছে ঢাকা পড়ে যায় ভাষা দিবসের ইতিহাস তেমনি তাৎপর্যপূর্ণ এ দিবস পালনেও ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হয়ে উঠেন। বাধাপ্রাপ্ত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহিদ দিবসের চর্চাও। তাই উপজেলার শহিদ মিনারহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, যতদ্রুত সম্ভব সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার স্থাপন করা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জে মাদ্রাসাসহ নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে মোট ২৭টি। নিম্ন মাধ্যমিক ৪টি, মাধ্যমিক ১২টি, কলেজিয়েট স্কুল ৩টি, কলেজ ১টি, আলিম ও দাখিল মাদ্রাসা যথাক্রমে ২টি ও ৫টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকস্তরে পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজে জরাজীর্ণ অবস্থায় একটি শহিদ মিনার দাঁড়িয়ে থাকলেও সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং ডুংরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নেই কোনো শহিদ মিনার। উপজেলার একমাত্র স্বতন্ত্র কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত) আবদুল মজিদ কলেজ।

এখানেও স্থাপিত হয়নি শহিদ মিনার। মাধ্যমিকে জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়, গনিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, সাতগাঁও জীবদারা উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়, বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয় ও পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার আছে নামমাত্র। দীর্ঘদিন আগে নির্মিত হওয়ায় প্রায় জরাজীর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের মিনারগুলোর। কোনো কোনোটি তো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বছরে তিনবার (একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর) ধুয়ে মোচে একটু পরিষ্কার করা হলেও ভাঙাচোরা অংশ ভাঙাই থেকে যায়। সচেতন মহলের দাবি, এগুলোকে পুনর্নির্মাণ করার।

সূত্র আরও জানায়, উপজেলার পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়, জয়সিদ্ধি বসিয়াখাউড়ি, বড়মোহা (জেবিবি) উচ্চ বিদ্যালয়, গাগলী নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ইসহাকপুর শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, হলদারকান্দি সপ্তগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টাইলা পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সলফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শিমুলবাক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার স্থাপনই হয়নি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কলাগাছ, বাঁশ অথবা কাগজ দিয়ে প্রতীকী শহিদ মিনার তৈরি করে তার উপরে শহিদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবে। এছাড়াও আমরিয়া আলিম মাদ্রাসা, আক্তাপাড়া আলিম মাদ্রাসা ও হযরত শাহজালাল (র.) দাখিল মাদ্রাসাসহ মোট ৭টি আলিম ও দাখিল মাদ্রাসার কোনোটিতেই শহিদ মিনার নেই।

সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইতিহাস, ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ও কৃষ্টি চর্চার অন্যতম মাধ্যম। এখানে খুব সহজে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জাতির কাছে বার্তা পৌঁছানো যায়। এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি শহিদ মিনার বা ভাষা চর্চার উপাদান না থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হবে না এবং বিকৃত ইতিহাস জানবে। তাই জাতিকে আমাদের গৌরবের আর অহংকারের ইতিহাস জানাতে অন্তত প্রতিটি স্কুল প্রাঙ্গণে একটি করে শহিদ মিনার স্থাপন করা খুবই জরুরি।

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এনামুল কবির বলেন, বাঙালি জাতিসত্তার চেতনা বিকাশে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি- আমাদের শহিদ দিবস তথা ভাষা দিবসের ইতিহাসে শহিদ মিনার অনেক গুরুত্ব বহন করে। জেনেছি এখনও অনেক বিদ্যাপীঠ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই, যত দ্রুত সম্ভব এমন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে- এমনটাই আশা।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমি সমস্ত উপজেলায় ঘুরি। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই। শহিদ মিনার স্থাপনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা দরকার তা আমরা করবো।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ্ জামান বলেন, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকা জরুরি। আমাদের উপজেলায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নতুন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে আলোচনা করবো। আমরা উপজেলা থেকে কিছু সহযোগিতা করবো এবং তাদের ফান্ড থেকেও কিছু লাগিয়ে শহিদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ নেবো।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই তাদের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আমরা উপর লেভেলে আলাপ করেছি। তারাও আমাদেরকে খুব আশ্বস্ত করেছেন। আমরা লিখেছি। জোর দিয়ে বলেছি। সম্প্রতি এ কাজ শুরু হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.