সিলেটটুডে ডেস্ক | ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পিকআপ চাপায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রক্তিম শীলও মারা গেছেন। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই পিকআপ চাপায় নিহত হন তার পাঁচভাই। এ কয়দিন হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনিও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বৃদ্ধা মনু রানী শীল সমকালকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তাদের বাবা সুরেশের মৃত্যু হয় পাঁচ ছেলের মৃত্যুর ১০ দিন আগে। বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে ফেরার পথে পিকআপ চাপায় নয় ভাইবোনের মধ্যে পাঁচভাইয়ের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, অনুপম শীল (৪৭), নিরূপম শীল (৪৫), দীপক শীল (৪০) ও চম্পক শীল (৩০) ও স্মরণ সুশীল (২৯)। এ দুর্ঘটনায় রক্তিম ও প্লাবন দুইভাই এবং আরেক বোন হীরা আহত হন। এরমধ্যে রক্তিমের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
তখন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেছিলেন, মেডিসিন, নিউরোসার্জারি, রেসপিরেটরি মেডিসিন, অর্থোপেডিকস ও আইসিইউর পরামর্শকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রক্তিমের চিকিৎসা পরিচালিত হচ্ছে। তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তিনি অজ্ঞান আছেন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রক্তিমকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। ওখান থেকে মেডিকেলের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পরিবারটির সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে। একসঙ্গে নিহত পাঁচভাইয়ের স্মরণে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন হয়। এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীরাও চোখের জল ফেলেন সেদিন।