সিলেটটুডে ডেস্ক | ২০ মার্চ, ২০২২
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। রোববার (২০ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টায় তাকে সমাহিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ১০টার পর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগা ময়দানে সাহাবুদ্দীন আহমদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন। পরে সেখান থেকে তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
তার আগে গতকাল শনিবার বিকেলে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় নিজ বাড়ির আঙিনায় সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে মারা যান সাহাবুদ্দীন আহমদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
নব্বইয়ের গণআন্দোলনে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ সরকারের পতনের নাটকীয়তার মধ্যে আকস্মিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আসেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। দেশে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে তার ভূমিকাকে 'অনন্য' হিসেবে অভিহিত করে থাকেন অনেকে।
সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর তিনি দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বেই একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় এবং ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বেশ কয়েকটি কঠোর আইন সংশোধন করেছিলেন, যা দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিল। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সফলভাবে মেয়াদ শেষ করার পর তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর বঙ্গভবন ত্যাগ করেন এবং পুনরায় প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান সাহাবুদ্দীন আহমদ।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অবসরে যাওয়ার পর গুলশানে নিজের বাসভবনে অনেকটা নিভৃত জীবনযাপন করছিলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ।