সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ মার্চ, ২০২২
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে শ্রদ্ধা নিবেদনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে বিএনপি। এর পরিবর্তে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
রোববার দুপুর ২টায় নগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের বিপরীতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে ‘মিথ্যা ঘোষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন’ ঠেকাতে রোববার সকাল থেকেই সেখানে অবস্থানের কথা জানায় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের এই অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণার পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার পর কর্মসূচির স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু সুফিয়ানসহ দলের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেন।
এদিকে, উভয় দলকেই সেখানে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান।
বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের মত কোনো পরিবেশ-পরিস্থিতি দেশে নেই। বিপ্লব উদ্যানেও অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়েছিলাম, দেয়নি। এখন আমরা পলোগ্রাউন্ডে জনসভা রেখেছি। এক সপ্তাহ আগে আমরা কর্মসূচি ঘোষণার পর হঠাৎ আওয়ামী লীগ অনুষ্ঠান দিল। এটা কেমন কথা? আমরা কোনো অনুষ্ঠানে একটা মাইক বাঁধারও অনুমতি পাই না। এভাবে চলতে পারে না। কেন্দ্রীয় নেতারা কাল আসবেন। আমরা পলোগ্রাউন্ডে জনসভা করব।
উল্লেখ্য, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের সংগঠক বেলাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’।
বেলাল মোহাম্মদের লেখা ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ বইটি থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ সেসময়ের মেজর জিয়াউর রহমান স্থানীয় নেতাদের অনুরোধে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেছিলেন। ঘোষণাপত্র পাঠ করায় বিএনপি জিয়াকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে দাবি করে আসছে। এ উপলক্ষেই এ কর্মসূচি নেয় দলটি।
বর্তমানে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ওই ভবনের নিচতলায় ১১১ নম্বর কক্ষটি ‘স্বাধীনতা ঘোষণা কক্ষ (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র), বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম’ হিসেবে সংরক্ষিত আছে।