Sylhet Today 24 PRINT

কনস্টেবল নাজমুল তারেক কি স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন?

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৫ এপ্রিল, ২০২২

ছবি: সংগৃহিত

টিপ পরা নারীকে হেনস্তাকারী পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেক দাবি করেছিলেন তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রভাষক লতা সমাদ্দারের কথাকাটাকাটির দাবিও করেছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে নাজমুল তারেকের স্ত্রীকে নিয়ে বের হওয়ার কোন ছবি দেখা যায়নি। তিনি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন-এমনই প্রমাণ মিলেছে।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গত শনিবার এ ঘটনার পর নাজমুলকে শনাক্ত করে ডিএমপি। ইতোমধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে অভিযোগের তদন্তও শুরু হয়েছে।

অভিযোগের পর পরই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উৎপল বড়ুয়া গত রোববার রাতে বলেছিলেন, নারী শিক্ষককে হেনস্তাকারীকে চিহ্নিত করা যায়নি। নারী শিক্ষকের করা অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির পরনে পুলিশের পোশাক পরা থাকলেও তিনি ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত ছিলেন না। ঘটনাস্থল ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টের সামনে মেট্রোরেলের কাজ চলমান থাকায় পদচারী–সেতুটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক সদস্য ও আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেও নারী শিক্ষককে হেনস্তাকারী সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নারী শিক্ষকের দেওয়া মোটরসাইকেলের নম্বরের সূত্র ধরে হেনস্তকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তবে শেষ পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করা হয় ওই এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া একটি স্থিরচিত্র ছড়িয়েছে ফেসবুকে। সেই ছবিটি শেয়ার করে অনেকেই দাবি করেছেন, নাজমুলের মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিলেন তার গর্ভবতী স্ত্রী। মোটরসাইকেলে বসা নাজমুলের পেছনে হলুদ রঙের অস্পষ্ট একটি অংশ দেখিয়ে সেটি তার স্ত্রীর পোশাক দাবি করা হয়েছিল।

নারীর টিপ পরাকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করে অনেকেই হেনস্তাকারী পুলিশ সদস্যের পক্ষ নিয়েছিলেন। তাদের অনেকের দাবি ছিল, ‘টিপকাণ্ডে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেকের গর্ভবতী স্ত্রী বাইকের পেছনে বসে ছিলেন, সিসিটিভির ফুটেজে যা স্পষ্ট। কিন্তু সেই গর্ভবতী নারীর বিষয়টি কেন এড়িয়ে যাওয়া হলো? ‘অভিযোগকারী লতা সমাদ্দার থানায় যে অভিযোগ করেছেন, সেখানে কোথাও উল্লেখ করেননি পুলিশ সদস্যের গর্ভবতী স্ত্রীর কথা। অথচ পুলিশ সদস্য ও লতা সমাদ্দারের বাগ্‌বিতণ্ডার সূচনাই হয় পুলিশ সদস্যের গর্ভবতী স্ত্রীর পায়ের সাথে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে।’ একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে ফেসবুকে অনেকেই দাবি করেছেন, ঘটনার দিন নাজমুলের স্ত্রীর সঙ্গে অভিযোগকারী কলেজশিক্ষক ড. লতা সমাদ্দারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। টিপ পরা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়নি।

নাজমুলের মোটরসাইকেলের পেছনে সেদিন তার স্ত্রী ছিলেন কি না তা পরিস্কার হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন স্থিরচিত্রে। সিসিটিভির ফুটেজের আরও কিছু স্থিরচিত্রে দেখা যায়, কনস্টেবল নাজমুলের পেছনে তার স্ত্রী থাকার দাবি সত্যি নয়। যে হলুদ রঙের বস্তুটিকে নাজমুলের স্ত্রী হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, সেটি মূলত মোটরসাইকেলের পাদানি বরাবর ঝুলিয়ে রাখা একটি হলুদ রঙের ব্যাগ।

নাজমুলকে সোমবার সকালে শনাক্ত করার কথা জানায় পুলিশ। আশপাশের বিপণিবিতান ও দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলের কোনো চিত্র ধরা না পড়লেও বিভিন্ন ফুটেজে নাজমুলের গতিপথ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে যাওয়ার সময় ফার্মগেট ইন্দিরা রোডের আশপাশের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায় নাজমুলের মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে।

কনস্টেবল নাজমুল তারেক ২০১১ সালে পুলিশে যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি যশোরে। গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত আছেন। আগে তিনি পুলিশ লাইনসে থাকলেও সম্প্রতি সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা এলাকার ভাড়া বাসায় থাকছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সেদিন ঘটনার পর নাজমুল মোটরসাইকেল চালিয়ে ইন্দিরা রোড-খামারবাড়ি হয়ে তালতলায় গিয়েছিলেন। তার যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরায়। সেসব ফুটেজের কোনোটিতেই নাজমুলের পেছন কোনো আরোহীকে দেখা যায়নি।

ফেসবুকে যারা পোস্ট দিচ্ছেন তারা মোটরসাইকেলে ঝোলানো হলুদ একটি ব্যাগকে তার স্ত্রী বানিয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে, কলেজশিক্ষক লতা সমাদ্দার বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ সদস্য একাই ছিলেন। তার সঙ্গে কোনো নারীকে আমি দেখিনি। এমনকি বাগ্‌বিতণ্ডার পর মোটরসাইকেল চালিয়ে আমাকে চাপা দেবার ভঙ্গিমায় পালিয়ে যাওয়ার সময়েও মোটরসাইকেলে তিনি একাই ছিলেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.