Sylhet Today 24 PRINT

জগন্নাথপুরের মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ঠাই হল দরিদ্র এক পরিবারে

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর |  ৩০ মে, ২০২২

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সমতেরা বেগম (৪০) নামের মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর চিকিৎসা শেষে ঠাঁই হয়েছে রানীনগর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে। প্রায় এক মাস সিলেটের হাসপাতালে চিকিৎসার পর কিছুটা স্বাভাবিক হন তিনি। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে পারিবারিক যত্নে রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছেন তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধানকারীরা।

রোববার (৩০ মে) সকাল থেকে ওই নারী রানীনগর গ্রামের দরিদ্র হোটেল ব্যবসায়ী রাশিদ মিয়ার বাসায় ওঠেন। তাঁর জন্য দেশ ও দেশের বাইরে থেকে পাঠানো সহায়তার টাকা থেকে ভরণপোষণের খরচ বহন করা হবে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও এলাকাবাসী সমতেরা বেগমের জন্য আর্থিক সহযোগিতা পাঠান। ওই টাকায় ৫ মে থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। পরে সিলেটের আখালিয়া শাহজালাল (রহ.) মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে তাঁর চিকিৎসা চলে।

রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ বলেন, ‘ওই নারীর চিকিৎসার জন্য ফেসবুকে আহ্বান জানালে ব্যাপক সাড়া পাই। দেশে–বিদেশে অবস্থানরত বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ টাকা পাঠিয়েছেন। মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৮০ টাকা উঠেছে। সমতেরা বেগমকে সিলেট প্রায় এক মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে রানীনগর গ্রামের রাশিদ মিয়ার বাড়িতে থাকা–খাওয়ার খরচ দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অনেকটা স্বাভাবিক। তবে প্রতি মাসে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’

রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় ও রানীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফটকে তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন সমতেরা বেগম। করোনাকালীন ছুটি শেষে গত ৩ মার্চ বিদ্যালয় দুটি খোলার পর তাকে সেখানে অসংলগ্ন অবস্থায় চলাফেরা করতে দেখা যায়।

এরপর রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে জানতে পারেন ওই নারীর নাম সমতেরা বেগম। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা গ্রামের মৃত আবদুল্লাহর মেয়ে। তবে ওই ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলে তার দরিদ্র বোন সমতেরার দায়িত্ব নিতে চাননি। পরে প্রধান শিক্ষক ওই নারীর চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে আবেদন জানান।

রানীগঞ্জ বাজারের ফেরিঘাটে ভাতের হোটেলের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়া রানীনগর গ্রামের রাশিদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে প্রায়ই আমার এখানে খাওতাম। এখন আমার বাড়িতে রেখে তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করব।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.