Sylhet Today 24 PRINT

জনগণের জন্য নয়, এটা ডলার পাচারকারী ও অর্থ লুটেরাদের বাজেট: বিএনপি

সিলেটটুডে ডেস্ক: |  ১১ জুন, ২০২২

বিএনপি বলেছে, জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের জন্য নয়, এটা ডলার পাচারকারী ও অর্থ লুটেরাদের বাজেট। শনিবার আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় দলটি আরও বলেছে, বর্তমান কঠিন সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এটা বাস্তবতাবিবর্জিত বাজেট। ব্যবসায়ী ও সরকারের আশীর্বাদপুষ্টদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে এতে।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদ্মা সেতুর বিভিন্ন 'অনিয়মের' তথ্য দেন।

ফখরুল বলেন, এটা পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল সেতু। ভারত ও চীনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এ সেতুর জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা দিয়ে কয়েকটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত।

তিনি আরও বলেন, ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার পদ্মা সেতুর ব্যয় কীভাবে বর্তমান সরকারের সময় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা এবং রেল সংযোগের কারণে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকায় ঠেকল, জনগণ তা জানতে চায়।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দেশের জনগণের মনোজগতে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের আবেগময় আবহ সৃষ্টির প্রচেষ্টার আড়ালে মানুষের মন থেকে আওয়ামী লীগের গত ১৪ বছরে তাদের সব পাপ, দুর্নীতি, অন্যায় ও অপকর্মের ক্ষত মুছে ফেলার একটি মোক্ষম কৌশল হিসেবে নিয়েছে সরকার। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ অতি সচেতন। প্রকৃত সত্য তাদের জানা আছে।

মির্জা ফখরুল শিক্ষা খাতে বাজেট কমানো, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রহসন, কৃষি খাতে কম বরাদ্দ, মেগা প্রকল্পে বাজেট আরও বাড়ানোর সমালোচনা করেন। তিনি পিডিবি, ব্যক্তি খাতের অলস বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বিদেশ থেকে ভারতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বড় অঙ্কের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট হলো 'অফ দ্য বিজনেস, বাই দ্য বিজনেস এবং ফর দ্য বিজনেস'। এটি ব্যবসায়ীবান্ধব, জনকল্যাণের কোনো কথাই এতে স্থান পায়নি। মূল্যস্ফীতিতে জনমানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও তাদের স্বস্তি দেওয়ার কোনো কথা নেই এ বাজেটে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি, স্বস্তি পায়নি মধ্যবিত্ত। বাজেটে যেসব পণ্যের আমদানি কর বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর ভোক্তা মূলত মধ্যবিত্তরাই। মেডিটেশনের ওপরও ৫ ভাগ কর আরোপ করা হয়েছে।

বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ বৈধকরণ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এর মাধ্যমে দুর্নীতির দুয়ার অবারিত করা হচ্ছে। এটা আন্তর্জাতিক ও দেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী। এর মাধ্যমে সরকার দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন নীতি গ্রহণ করেছে। এটা সুশাসন ও আইনের শাসনের পরিপন্থি।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের যুক্তিতে পাচার করা অবৈধ অর্থ বৈধ করার প্রস্তাব কেবল অনৈতিক নয়, এটা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দুর্নীতি ও অর্থ পাচারকে রাজক্ষমা ঘোষণার শামিল। এতে বর্তমানে চলমান অর্থ পাচার-সংক্রান্ত মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এটা অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করবে। অর্থ পাচারকারীরা আরও উৎসাহী হবে। এটা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক যে কোনো মানদণ্ডেই অগ্রহণযোগ্য। পাচার হওয়া টাকা দেশে আনার বৈধতা দিলে যারা নিয়মিত কর দেন, তারা হতাশ হবেন। এতে টাকা আরও পাচার হওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে। টাকা পাচারকারীরা উৎসাহিত হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার অবশেষে স্বীকার করেছে, বহিঃস্থ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। কিন্তু কীভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তার কোনো রোডম্যাপ দেননি অর্থমন্ত্রী। মূলত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রমাণ করে, মূল্যস্ফীতি বাস্তবে অনেক বেশি। বর্তমানে এটা ১২ শতাংশ। তা ছাড়া তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে কোনোভাবেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, বাজেটে বলা হচ্ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রধান টার্গেট। কিন্তু বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে কী করে! বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করলে উৎপাদন মূল্য বেড়ে মুনাফা কমবে। তাহলে বিনিয়োগও কমবে।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ সবই গতানুগতিক। করোনাকালে এই খাতে যেসব দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো পূরণের জন্য কোনো ধরনের পদক্ষেপ বাজেটে নেই। স্বাস্থ্য খাতকে চরমভাবে অবহেলা করা হয়েছে। বরাদ্দ কমেছে।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি কাজ করছে না। এখন কাজ করছে আওয়ামী ইকোনমিক মডেল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও নাসের রহমান উপস্থিত ছিলেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.