Sylhet Today 24 PRINT

নড়াইলে শিক্ষক লাঞ্ছনা: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৮ জুলাই, ২০২২

নড়াইলের কলেজ শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে নড়াইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমকে শিক্ষক লাঞ্ছনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে আদেশে।

আর নড়াইলের ঘটনাসহ দেশর বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে ‘জনতার বিচার’ বন্ধে এবং লাঞ্ছনার শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা ও নি্ষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, নড়াইল জেলা প্রশাসক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, নড়াইল পুলিশ সুপার, নড়াইল সদর থানার ওসিকে এই রুলের জবাব দিতে বলেছে হাই কোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও আইনজীবী অনীক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

শিক্ষককের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনার তদন্ত চেয়ে এর আগে গত ৪ জুলাই এ রিট আরেদনটি করা হয়েছিল।

গত ১৭ জুন মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্র ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার বিতর্কিত এক বক্তব্য নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার পরদিন কলেজে গেলে কিছু মুসলমান ছাত্র তাকে ওই পোস্ট মুছে ফেলতে বলেন।

এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস পুলিশে খবর দেন। এর মধ্যে ‘অধ্যক্ষ ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন’ এমন কথা রটানো হলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অধ্যক্ষ ও দুজন শিক্ষকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদেরও সংঘর্ষ বাধে।

ওই সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়রা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেইসবুকে আসে, যাতে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়।

অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর খবরে বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনার মধ্যে শুক্রবার রাতে ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আকাশ সাহা নামে এক কলেজ ছাত্রের ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দীঘলিয়ায় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তার গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে তাদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন।

বিকালে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং সন্ধ্যায় তারা সাহাপাড়ার কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরে টিনের কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরদিন শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সংসদ সদস্য মাশরাফি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও মন্দিরের পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সব ধরনের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। তিনি এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানও রাখেন।

হামলার ঘটনায় তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে সোমবার হাই কোর্টে আরেকটি সম্পূরক আবেদন করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। তবে এ আবেদন গ্রহণ না করে ফেরত দিয়েছে আদালত।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.