সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৭ অক্টোবর, ২০২২
দেশের ৫৭ জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রায় চারশ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের ৪১৩নং কক্ষে বসে সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে নজর রাখছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা।
সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দেশের ৫৭ জেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে বেলা ২টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই ৪১৩নং কক্ষে অবস্থান নেন ইসির কর্মকর্তারা। সেখান থেকে সরাসরি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শুরু করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-সহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা।
বেলা ১টা পর্যন্ত দুটি নির্বাচন কেন্দ্রে কিছুটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রের ভোট বন্ধের ঘটনা ঘটেনি।
ভোটগ্রহণ চলবে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। ভোট শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে একইভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্যরা। সেদিন বেশ কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম দেখা যায়। একেএকে বন্ধ করে দেওয়া হয় ৫১টি কেন্দ্র। পরে দুপুর নাগাদ পুরো নির্বাচনই বন্ধ ঘোষণা করেন সিইসি৷
গাইবান্ধার নির্বাচনের চার দিনের মাথায় দেশের ৫৭টি জেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে জেলা পরিষদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করছেন।
সবমিলিয়ে সারাদেশের ৪৬২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে ৬০ হাজার ৮৬৬ ভোটার এই নির্বাচনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য মিলিয়ে ৬৭১ জন জনপ্রতিনিধি বাছাই করবেন।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৯৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ভোটগ্রহণের পরের দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাতজন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও র্যাবের একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
এছাড়া বৃহত্তর ১৯টি জেলায় দুটি প্লাটুন ও অন্যান্য জেলায় এক প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটকক্ষে ভোটাররা যাতে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে অথবা ভোটকক্ষে ভোটদান বিশেষ করে গোপন কক্ষে ভোট প্রদানের ছবি তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এর আগে তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে হাইকোর্টের আদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালীর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এছাড়া ভোলা ও ফেনীর সব পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সোমবার ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৫৭ জেলা পরিষদে।