সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫
পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নারীদের হয়রানিতে জড়িতরা পার পেয়ে গেল। তাদের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আসামিদের খুঁজে না পাওয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ডিবি।
ঘটনার আট মাস পর গত ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই দীপক কুমার দাস ঢাকা মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি।
গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের উৎসবে টিএসসি-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের হয়রানি করে। ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনগুলো আন্দোলনে নামে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা ওই মামলায় আসামির তালিকায় কারো নাম ছিল না।
তদন্তের এক পর্যায়ে গত মে মাসে ওই এলাকার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি দেখে আট নিপীড়ককে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তাদের ধরিয়ে দিতে সহায়তা করলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্ষবরণে যৌন হয়রানির ঘটনা গোপন ও প্রকাশ্য তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চিহ্নিত আটজনের কাউকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা বিস্তারিত শুনে মামলাটি অহেতুক মুলতবি না রেখে দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়। মামলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চিহ্নিত আট লাঞ্ছনাকারীকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় এবং কোনো আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল তদন্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস বলেন, ‘কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।’