সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবমাননাকর মন্তব্য ও সংশয়প্রকাশের প্রেক্ষিতে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি ও গুলশান-২ চত্বরে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেছেন শহীদ পরিবারের সন্তান সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন তারা।
আগের ঘোষণা অনুযায়ী একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন গুলশান ২ নম্বরে অবস্থান নেন। সেখানে তারা খালেদা জিয়ার শাস্তি এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্য বন্ধে সংসদের আগামী অধিবেশনেই আইন করার দাবি জানান।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ‘অবমাননাকর’ বক্তব্যেরও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
বিক্ষোভকারীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের বাড়ির দিকে এগোনোর চেষ্টা করলেও তার কয়েকশো গজ সামনে পুলিশের ব্যারিকেডে আটকা পড়েন। কূটনৈতিক এলাকা হওয়ায় সেখানে সভা, সমাবেশ, মিছিল করার অনুমতি নেই এল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলে আবারও গুলশান-২ মোড়ে ফিরে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা অনেক পুরনো এবং যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের পাশাপাশি বাংলাদশের মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির শহীদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্যের জন্য খালেদা জিয়াকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করারও দাবি জানান তিনি।
এতে অংশ নিয়েছেন শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কাজী মুকুলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিএনপির নেতারা যে কটূক্তি করছেন, এর জন্য তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাকে যারা অস্বীকার করেন, তারা বাংলাদেশকেই অস্বীকার করেন। এজন্য আইন তৈরি করে এই দেশদ্রোহীদের বিচারের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।’
এদিকে গুলশানে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার বাসভবন ও কার্যালয়ের সামনে বিপুল পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এ ব্যাপারে ডিএমপি’র গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাফিজুর আহমেদ বলেন, ‘পুর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও নির্মূল কমিটির নেতাকর্মী, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তানরা এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বিতর্কিত মন্তব্যের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কটূক্তি করেন। এর ফলে নানান মহল থেকে প্রতিবাদ আসছিল। দুই এক দিনের মধ্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে অবস্থান কর্মসুচি থেকে জানান বক্তারা।