সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
গোপালগঞ্জে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে। গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত আইনজীবী।
অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন (৪৫) আলমগীর হোসেন গোপালগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী। পাশাপাশি তিনি শহরতলীর ঘোনাপাড়া এলাকায় একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের পরিচালক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের পাঁচুড়িয়া এলাকার সামচুল হক রোডে আলমগীরের বাড়িতে ভাঙচুর করেন বশেমুরবিপ্রবির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে ওই বাড়িতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার দিন গভীর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোরাদ হোসেন বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি এজাহার দায়ের করেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে ওই আইনজীবী পলাতক। তার সঙ্গে সবশেষ (শনিবার) যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে ইচ্ছুক ছিলেন। আগ্রহী অভিভাবক হিসেবে ৩-৪ মাস আগে অ্যাডভোকেট আলমগীরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।
সন্তানদের পড়ানোর কথা বলে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে আলমগীর মোবাইল ফোনে ওই ছাত্রীকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে আসতে বলেন। ওই ছাত্রী সেখানে গিয়ে আলমগীরকে জানালে তিনি বাসায় যেতে বলেন।
কথামতো ওই ছাত্রী আলমগীরের বাসায় যান। তখন বাসায় আর কেউ উপস্থিত ছিল না। এ সুযোগে কথাবার্তার একপর্যায়ে আলমগীর মেয়েটির শ্লীলতাহানি করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
তখন চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্টার জানান, ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। রেজিস্ট্রার, প্রোক্টরিয়াল বডির সদস্য এবং ভুক্তভোগীর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, শুক্রবার অভিযোগ অস্বীকার করে আইনজীবী আলমগীর বলেন, আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে ওই ছাত্রী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা আমার বাসায় হামলা করে ভাংচুর চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীকে দিয়ে ওই ছাত্রী ও ভাঙচুরে জড়িতদের নামে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।