রুমেল আহসান, ফেঞ্চুগঞ্জ | ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের বাড়ি বাড়ি। ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় দপ্তরে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গোপন ভোটের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নির্বাচিত করা হয়।
ফেঞ্চুগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ভরাডুবি হয়। একটি ইউনিয়নে জয়লাভ করে নৌকা মার্কার প্রার্থী। গেলো বারের মতো এবারের নির্বাচনে কি আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে? নাকি নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিবে দলটি, এনিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
গেল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে আসবে না। সেজন্য বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন- ১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে সাহিল আহমদ, ২নং মাইজগাঁও ইউনিয়নে জুবেদ আহমদ চৌধুরী শিপু, ৩নং ঘিলাছড়া ইউনিয়নে সাইফুল ইসলাম, ৪নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে লুদু মিয়া ও ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে আতিকুর রহমান মিটু।
এদিকে ১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে নৌকার মাঝিকে নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাহিল আহমদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় দপ্তরে তৈয়বুর রহমান শাহিনের নাম পাঠিয়েছেন উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তবে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি, তা জানা যাবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সভায়।
৪নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আহমেদ জিলু। তিনি উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এমরান উদ্দিন। তিনি উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০১৮ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জিলু ও এমরান বিএনপি মনোনীত হয়ে ধানের শীর্ষ প্রতীকে নির্বাচনে বিজয়ী হন।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওহিদুজ্জামান ছুফি চৌধুরী বলেন, বিএনপি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই যাবে না, এটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা কেন্দ্র থেকে জানানো হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী বলেন, তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিতে জনগণ নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন ভোট দিয়ে। জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।