সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
শিশু অনিন্দ্য, বয়স সাড়ে ৩ বছর। হঠাৎ জ্বরের পর প্রথম কিছু দিন প্যারাসিটামল খাওয়ানো হয় তাকে। এরপর চলে অ্যান্টিবায়োটিক। তারপর জ্বর নেমে যায়। কিছুদিন পর আবার জ্বর আসে। আবারও দেয়া হয় এন্টিবায়োটিক। এভাবে চলে এক মাস। তারপরও অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় অনিন্দ্যের লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যান্সার। তবে অধিকাংশেরই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
অনিন্দ্যর মা বলেন, ছেলে দিনে স্বাভাবিক থাকলেও রাতে জ্বর আসতো।
চিকিৎসকরা জানান, লিউকেমিয়া, লিভার ও ব্রেনসহ ১০ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসা নিচ্ছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে। যেখানে ২০২১ সালে এ হাসপাতালে ৩১ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু এসেছিল। আর ২০২২ সালে এসে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭ জনে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও গত দুই বছরে গড়ে ৩০০ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। ঘন ঘন জ্বর, শরীরের দাগ ও ফোলাসহ নানা প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের শিশু ক্যানসার ও রক্তরোগ বিভাগীয় প্রধান ডা. ইন্দিরা চৌধুরী বলেন, কিছু কোষ ম্যচিউর হয়ে যখন অ্যাডাল্ট কোষে তার এ প্রসেসটা কোথাও গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়। যখন শিশু ভূমিষ্ঠ হয় তখন হয়তোবা কারও কারও ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের রেডিওলজি এন্ড নিউক্লিয়ার ইমেজিং বিভাগের প্রফেসর ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, শিশুদের যে ক্যান্সার তার শতকরা ৮০ ভাগ নিরাময়যোগ্য। এ ম্যাসেজটা আমরা জনগণকে দিতে চাই। দ্রুত হাসপাতালে আসলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায় এবং রোগীরাও ভালো থাকে।
এ অঞ্চলে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালেই শিশু ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর চট্টগ্রাম মেডিকেল এবং মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৪শ’ শিশু।