সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
লালমনিরহাটে জঙ্গি মামলা থেকে খালাস পাওয়া দুজন কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই অপহৃত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। স্বজনেরা বলছেন, কারাগার থেকে ওই দুজন বের হওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই সাদা রঙের একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে গেছে মুখোশধারীরা।
এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে লালমনিরহাট সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছে দুজনের পরিবার। বৃহস্পতিবার তারা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
নিখোঁজ দুজন হলেন জামাল উদ্দিন ও মেহেদী ওরফে মেহেদী হাসান। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদুল আলম বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামাল উদ্দিনের বড় ভাই মো. আবুল কালাম আজাদ ও মেহেদী ওরফে মেহেদী হাসানের বাবা মো. আব্দুল লতিফ থানায় অভিযোগ দুটি দেন।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার পৃথক তিন মামলার রায়ে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান জেএমবির দুই সদস্য রাকিবুল ইসলাম ও নাহিদ হোসেনকে ৪২ বছরের কারাদ- দেন। পাশাপাশি এসব মামলার চার আসামি হাসানুল বান্না, জামাল উদ্দীন, নাহিদ হাসান ও মেহেদী হাসানকে খালাস দেন আদালত। ওই চারজনের মধ্যে জামাল ও মেহেদী জেলা কারাগারে ছিলেন। বাকি দুজনের মধ্যে একজন পলাতক ও একজন জামিনে মুক্ত ছিলেন।
পরিবার অভিযোগ করেছে, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামাল ও মেহেদী কারাগার থেকে ছাড়া পান। তবে জেল গেট থেকে বের হতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গ্লাসের একটি সাদা মাইক্রোবাস আট-নয়জনের মাস্কধারী দল ওই দুজনকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
জামালের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি, আমার ভাগ্নে ও মেহেদীর বাবা জেল গেটের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমরা দেখলাম ওরা জেল থেকে বের হলো। এর পরপরই দেখলাম, আমার ভাই আর মেহেদীকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে জোর করে উঠাইতেছে। তারপর থেকে আর তাদের খুঁজে পাচ্ছি না। আমি জানতে পাইছি, ভাইকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।’
মেহেদীর বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমার ছেলের দোষ থাকলে তো আদালত খালাস দিত না। আমি অনেক কষ্ট করছি ছেলের জন্য। সে জেল থেকে বের হবে এবং তাকে নিয়ে বাড়ি যাব। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়ার পরই তাদের আবার ধরা হলো কেন? আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পরও আক্রোশ মিটল না? আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’
এদিকে নিখোঁজ দুজনের সন্ধান চেয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার। লালমনিরহাট সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বিকেল ৪টার দিকে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেহেদীর বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমার ছেলেকে জেএমবি সন্দেহে প্রায় ৮ মাস আগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান আমার ছেলেসহ মোট চারজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। পরে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জেল থেকে ছাড়া পায় আমার ছেলে ও তার সাথে খালাস পাওয়া আসামী জামাল উদ্দীন। তারা জেল থেকে বের হওয়ার পরপরই মাস্কধারী ৮-৯ জনের একটি দল তাদের দুজনকে ধরে কালো গ্লাসওয়ালা একটি সাদা মাইক্রোবাসে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়। সেই থেকে আজ অবধি তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, “আমি এ রকম কোনো খবর পাইনি।”’
সংবাদ সম্মেলনে মেহেদীর বাবা আরও বলেন, ‘যেই নিয়ে যাক আমরা আমাদের ছেলেদের ফেরত চাই। আমরা লালমনিরহাট সদর থানা, জেলা প্রশাসক ও লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছি।’
নিখোঁজ জামালের বড় ভাই আবুল কালাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি আমার নির্দোষ ভাইকে ফেরত চাই। সে নির্দোষ বলেই তো আদালত তাকে খালাস দিয়েছে।’
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মো. এরশাদুল আলম বলেন, ‘আমি দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখব, আসল ঘটনা কী?’
সূত্র: দৈনিক বাংলা