সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ জানুয়ারী, ২০১৬
ব্লগার ও স্থপতি আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায়কে স্বাগত জানিয়েছে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)।
বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ রায় ঘোষণার পর সেই রায়কে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনটির ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
সিপিজের এশিয়া গবেষণা সহকারী সুমিত গালহোত্রা বলেন, ‘যদিও আহমেদ রাজীব হায়দারের হত্যা মামলার রায় অনেক বিলম্বে হয়েছে, তবুও বাংলাদেশে ব্লগারদের ওপর হামলার ঘটনায় এই প্রথম কোনো রায় হওয়াটা অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে যত দিন পর্যন্ত মূল পরিকল্পনাকারী ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে তত দিন পর্যন্ত সুবিচার অসমাপ্ত থাকবে। যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের বাকস্বাধীনতাকে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে, তাহলে অন্য ব্লগারদের হত্যাকারীদের বিচারে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং যারা ঝুঁকিতে আছে তাঁদের সুরক্ষা দিতে হবে।’
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন কালশীর পলাশনগরে নিজ বাড়ির সামনে ব্লগার রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন।
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি এ মামলায় জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ মামলায় মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ সাত আসামি কারাগারে আটক আছেন। ২৮ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ফয়সাল বিন নাইম ও রেদোয়ানুল আজাদ নামে দুজনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। মাকসুদুল হাসান অনিক নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এহসান রেজা রুম্মান, নাইম শিকদার ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে এবং সাদমান ইয়ানির মাহমুদকে তিন বছর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীম উদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।