Sylhet Today 24 PRINT

ফাঁসির আসামি রানা কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০২ জানুয়ারী, ২০১৬

ব্লগার ও স্থপতি আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রেদোয়ানুল আজাদ রানা কোথায় অবস্থান করছেন এটা নিয়ে অন্ধকারে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোন ব্লগারের মামলার রায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত হলেও দেশে সংঘঠিত লেখক, প্রকাশক ও ব্লগার হত্যা কিংবা হামলার ঘটনার পর পরই ঘুরেফিরে নাম আসে এ রানার নাম। 

রাজীব হত্যাকাণ্ডে জড়িত আটজনকে আদালত বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি দিলেও একমাত্র পলাতক অবস্থায় আছে রানা। সে কোথায় সে খবরও জানে না পুলিশ, গোয়েন্দা সহ সরকারের কোন বাহিনীই। তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে আগেই, তবুও অধরা রানা।

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক ছাত্র এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন লেখক-ব্লগার হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে গোয়েন্দারা বলছেন। তার পরিকল্পনায় হত্যা করা হয়েছে আরও দু'জন ব্লগার ও প্রকাশককে।

গত বৃহস্পতিবার ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার রায়ে রানা ও ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দীপকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এতে আবার আলোচনায় আসে তার নাম। তবে দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক রানাকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দারা বলছেন, বর্তমানে রানা দেশের বাইরে পলাতক। পুলিশের কাছে সে মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন ধরেই তাকে (রানা) গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে রানা দেশের বাইরে অবস্থান করতে পারে। তদন্ত শেষে আটজনকে আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০১৩ সালের ১৪ জানুয়ারি উত্তরায় ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের ওপর হামলায় সরাসরি জড়িত ছিল রানা। ওই হামলায় আরও জড়িত ছিল- সাদ আল নাইন, কাওসার আহমেদ, কামাল হোসেন সরদার, কামাল উদ্দিন ওরফে ব্যাংক কামাল, নবীর হোসেন ওরফে নবীন ও জসীমুদ্দীন রাহমানি। ইতোমধ্যে সাতজনকে আসামি করে আসিফ মহিউদ্দিন হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

রাজীব হত্যার পর অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডেও জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর গত ১৫ মার্চ, ২০১৫ রানাকে ধরতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

রানার গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞার উত্তর জয়লস্করপুরে। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ। রানা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। এরপর নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে ভর্তি হয়। সেখানে কয়েক বন্ধুকে নিয়ে উগ্রপন্থি দল গঠন করে।

ছাত্রাবস্থায় রানা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য ছিল। এর পর জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে (এবিটি) যুক্ত হয়। এবিটির তাত্ত্বিক নেতা জসীমুদ্দীন রাহমানির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। নিয়মিত ধানমণ্ডিতে একটি মসজিদে জসীমুদ্দীনের বয়ান শুনতে যেত রানা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকার ৩ নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম দীপ ও ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার জয়লস্করের রেদোয়ানুল আজাদ রানার মৃতুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

পাঁচজনের মধ্যে এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীকে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও দুমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেন আদালত।

ফাঁসির আসামি রানা ছাড়া বাকি সব আসামি কারাগারে রয়েছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.