সিলেটটুডে ডেস্ক | ০২ জানুয়ারী, ২০১৬
মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহিদের সংখ্যা এবং বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের ঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান এবং যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামাতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিল বিভাগে বহাল রেখে দ্রুত কার্যকরের দাবীতে আজ শাহবাগে সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ।
মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহিদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কর্তৃক শহিদ বুদ্ধিজীবীদের “নির্বোধ” বলার মত ধৃষ্টতার প্রসঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, “যারা পাকিস্তানের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তারা মস্তিষ্কবিকৃত লোক। যে দেশে বাস করে, যে দেশে রাজনীতি করে, সেই দেশের জন্মের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস নিয়ে মনগড়া বিতর্কিত কথা বলা একমাত্র মস্তিষ্কবিকৃত লোকের পক্ষেই সম্ভব”।
ইমরান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতির মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির চূড়ান্ত অপমৃত্যু ঘটেছে। এর আগে তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করে মিথ্যাচার করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন এই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার কারো থাকতে পারে না”।
তিনি আরো বলেন, “পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষা, জামায়াত এবং যুদ্ধাপরাধীদের স্বার্থরক্ষার জন্যই বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে”।
আগামী ৬ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। নিজামীর চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার দাবী জানিয়ে ইমরান এইচ সরকার বলেন, “গণহত্যাকারী, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারী মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে কলঙ্কমুক্তির দিকে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। অবিলম্বে এই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে হবে”।
তিনি বলেন, “তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা এই গণহত্যাকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকারী বিকৃতমস্তিষ্কের লোকেদের সঠিক জবাব দিতে হবে। একইসাথে জামাতে ইসলামীসহ এর আটটি সহযোগী সামাজিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির মূলোৎপাটন করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণই হবে এই ইতিহাসবিকৃতিকারীদের প্রতি চপেটাঘাত এবং তাদের ধৃষ্টতার মোক্ষম জবাব”।
রাজিব হায়দারের সকল খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজিব হায়দারের খুনের নির্দেশদাতারই সর্বোচ্চ শাস্তি হয়নি। যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখি করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন, সেই লেখক,ব্লগার, শিল্পী-সাহিত্যিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যারা খুন হয়েছেন তাদের খুনের সঠিক বিচার করতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে কাজ করেন তাদের বাকরুদ্ধ করে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতি বন্ধ করতে চাইলে তরুণদের নির্বিঘ্নে কথা বলার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে”।
জীবনানন্দ জয়ন্ত এর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন লিটন নন্দী, জামশেদ আনোয়ার তপন, শিবলী হাসান, ভাস্কর রাসা, সঞ্জীবন সুদীপ, সনাতন উল্লাস প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে গণজাগরণ মঞ্চের একটি বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ থেকে টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে আসে।