সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৭ এপ্রিল, ২০২৩
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সশস্ত্র দুই পক্ষের সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সময়ে উপজেলার খামতাং পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি সই হওয়ার পর এটিই বান্দরবানে সবচেয়ে বড় হতাহতের ঘটনা।
প্রশাসন বলছে, সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) দুই পক্ষের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, কেএনএফের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ সংস্কার)।
রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী ও রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান গোলাগুলি ও প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত খামতাং পাড়ায় থেমে থেমে দুই সশস্ত্র দল কেএনএফ ও ইউপিডিএফের সংস্কারপন্থিদের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি চলে। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে সশস্ত্র পোশাক পরিহিত গুলিবিদ্ধ লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। নিহতদের পোশাক দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তারা কেএনএফের সশস্ত্র শাখা কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) সদস্য।
ইউএনও খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে কেএনএফের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। ঘটনার পর সেখানে মরদেহ উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আটজন নিহতের খবর নিশ্চিত করলেও কেএনএফ দাবি করেছে, গোলাগুলিতে সাতজন নিহত হয়েছেন। কেএনএফের দাবি, সংস্কারপন্থি পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
নিহতরা হলেন ভান দু বম, সাং খুম, সান ফির থাং বম, বয় রেম বম, জাহিম বম, লাল লিয়ান ঙাক বম, লাল ঠা জার বম। নিহতদের মধ্যে ছয়জন উপজেলার জুরভারাং পাড়া এবং একজন পানখিয়াং পাড়ার বাসিন্দা।