Sylhet Today 24 PRINT

উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোখা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৩ মে, ২০২৩

শনিবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ১২ টার পর থেকে ভোর ৪ টার মধ্যে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার যাত্রাপথ বাংলাদেশের দিকে আরও এগিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ।

তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলের কাছাকাছি চলে এসেছে।

পূর্বাভাসে তিনি বলেন, '১৪ মে (রোববার) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি সেন্টমার্টিন দ্বীপ এবং পুরো কক্সবাজার জেলার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।'

এই সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫-২০০ কিমি হতে পারে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়াবিদ আরও সতর্ক করে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নোয়াখালী ও ভোলার চর এলাকা ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জোয়ারের হুমকির মুখে পড়তে পারে।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২১২ কিলোমিটার। এই গতিবেগ সারাদিন আরো বাড়বে বলে তার পূর্বাভাসে জানিয়েছেন মোস্তফা কামাল পলাশ।

তিনি আরো জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের চারপাশে সৃষ্টি হওয়া ঢেউয়ের উচ্চতা ৪৯ ফুট।

শনিবার সকাল ৬টায় প্রকাশিত আবহাওয়া অফিসের বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় রাত থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দেখা দিতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মৌচাকের প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মিমি) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিমি) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

এদিকে, চলমান পরিস্থিতিতে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেত জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারাও কিছুক্ষণের মধ্যেই ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেতের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান শনিবার সচিবালয়ে মোখার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেত জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ১৩ মে সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০–১৬০ কিলোমিটার হতে পরে বলে জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.