সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ জুলাই, ২০২৩
তাকসিম এ খান। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা ওয়াসার আলোচিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের মেয়াদ আবারও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আগামী অক্টোবরে চুক্তিভিত্তিক চাকরির মেয়াদ আবারও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ওয়াসা বোর্ডের একাধিক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, তাকসিম এ খানের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে প্রস্তাবের সারাংশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে নিয়োগ চূড়ান্ত হবে।
তাকসিম এ খানের চাকরির চলতি মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ অক্টোবর হওয়ার কথা। এখনো তিন মাসের বেশি সময় বাকি আছে। এই সময়ে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়ম মোতাবেক এমডি নিয়োগ দিতে পারত ওয়াসা বোর্ড। কিন্তু বোর্ডের চেয়ারম্যান তাকসিমের মেয়াদ আবারও এক মেয়াদ অর্থাৎ তিন বছরের জন্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে মঙ্গলবার।
এবার চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হলে ২০০৯ সালে এমডি পদে নিয়োগ পাওয়ার পর এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো তাকসিমের চাকরির মেয়াদ বাড়বে।
২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পেয়েছিলেন তাকসিম এ খান। এরপর পাঁচ দফায় তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
প্রথমবার ২০১২ সালে এক বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। ২০১৩ সালে বোর্ডের প্রস্তাব অনুসারে দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১৫ সালে ফের চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয় তার।
২০১৮ এবং ২০২০ সালে বোর্ড আবারও তাকসিমের মেয়াদ তিন বছরের জন্য বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে সরকার তা অনুমোদন করে।
আগামী ১৪ অক্টোবর তার পঞ্চমবারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বোর্ড ষষ্ঠবারের মতো ওয়াসার এমডির চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেছে।
জানা গেছে, গত ১২ বছরে তাকসিম এ খানের মাসিক বেতন বেড়েছে ৪২১ শতাংশ। ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে তাকসিমের মাসিক বেতন বর্তমানে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সর্বশেষ করোনা মহামারির মধ্যে একলাফে ওয়াসার এমডির বেতন বাড়ানো হয় পৌনে ২ লাখ টাকা। তাকসিম এ খান, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
দুর্নীতি, অনিয়মসহ নানা অভিযোগ থাকার পরও ঢাকা ওয়াসা বোর্ড কেন তাকসিমকে একই পদে রাখার প্রস্তাব করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি আকতার মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ওয়াসার পানি সরবরাহে উন্নতি হলেও কোনো টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাতেও সফলতা নেই। তাকসিম এ খান এমন অসাধারণ কিছু করেননি, যাতে তাকে আরও তিন বছর একই পদে রাখতে হবে। প্রথাগতভাবেও একজনের একই পদে দীর্ঘদিন থাকা উচিত নয়। এতে অন্যদের পথ রুদ্ধ হয় এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয় না।