সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ আগস্ট, ২০২৩
বাংলাদেশে চলমান বিক্ষোভে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতে সকল পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতাবিষয়ক (এফওএএ) বিশেষ দূত ক্লেমেন্ট ভউল।
সোমবার টুইটারে এক বার্তায় ক্লেমেন্ট ভউল এ আহ্বান জানান। এ তিনি বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি।’
টুইটে (এক্স) হ্যাশট্যাগ বাংলাদেশ লিখে ক্লেমো ভউল লেখেন, ‘চলমান বিক্ষোভ সমাবেশে সংঘাত ও গ্রেপ্তারের মাত্রা বাড়ছে, এ অবস্থায় সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
টুইটের সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকার একটি চিত্রও জুড়ে দেন জাতিসংঘের এই বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার।
এদিকে জাতিসংঘ বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উৎসাহিত করে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থার মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক।
সোমবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ওই সাংবাদিক জানতে চান, “কথিত (সো-কল্ড) নাগরিক সমাজের কিছু মানুষ এবং কিছু সংগঠন আছে- যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে তারা, এমনকি মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন থেকে বাংলাদেশকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ দাবির বিষয়টি কি আপনি জানেন? আমি আরও বলবো- ওইসব ‘তথাকথিত’ নাগরিক সমাজ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু নির্বাচিত ব্যক্তি বাংলাদেশে আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচন জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করার সুপারিশ করেছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো অবাধে সভাসমাবেশ করা শুরু করেছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের অ্যাসোসিয়েশন কি জাতিসংঘের সঙ্গে যথাযথভাবে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করবে? এ অবস্থায় জাতিসংঘের অবস্থান কী?”
ওই সাংবাদিক ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
জবাবে ফারহান হক বলেন, ‘আপনার প্রশ্নে দুটি অংশ আছে। প্রথমত, নির্বাচন নিয়ে। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উৎসাহিত করে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলবো, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণ যে উদারতা দেখিয়েছে তার জন্য জাতিসংঘ প্রশংসা জানায়। আমরা আশা করবো এই ধারা অব্যাহত থাকবে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপদের বিষয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সদস্য রাষ্ট্রগুলো।’
গত শনিবার রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোয় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এদিন ‘সতর্ক পাহারা’য় থাকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও সংঘর্ষে জড়ান বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে। সংঘর্ষে বিভিন্ন পক্ষের অনেকে আহত হন। বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটি বলেছে, রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য ‘নিরাপদ পরিবেশ’ তৈরি করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।