সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৬ অক্টোবর, ২০২৩
রিজার্ভ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিজার্ভ বেশি রাখা প্রয়োজন নাকি দেশের মানুষের কমফোর্ট? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘২০০৯ সালে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি, তখন আমাদের রিজার্ভ এক বিলিয়নও ছিল না। এখন যদি বলেন রিজার্ভ রক্ষা করতে হবে, তাহলে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিই? পানি দেওয়া, সার দেওয়া বন্ধ করে দিই? সব বন্ধ করে বসিয়ে রাখি। তাহলে আমার রিজার্ভ ভালো থাকবে?’
শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘রিজার্ভ বেশি রাখা আমার বেশি প্রয়োজন, না কি দেশের মানুষের কমফোর্ট। দেশের মানুষের ভালো-মন্দ। কোনটা বেশি প্রয়োজন?’
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান ও যুক্তরাজ্য সফরের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিশ্বব্যাপী জিনিসপত্রের দামের বিবরণ তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা আগে দুইশ ডলারে যে গম কিনতাম, এখন তা ছয়শ ডলারে কিনতে হচ্ছে। ৮০০ ডলারের পরিবহণ খরচ এখন তিন থেকে চার হাজার ডলার লাগছে। যে কারণে আমি দেশবাসীকে সব সময় আহ্বান জানায়, যেন এক ইঞ্চি জমিও খালি পড়ে না থাকে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নিজেরা উৎপাদন করব, নিজেরা খাব। অনেকে করছে। আমরাও করছি। যদি এতো বেশি কথা হয়, যখন সরকার গঠন করেছিলাম, তখন যেমন বিদ্যুৎ ছিল, ওখানে রেখে আবার ইলেকশন করব, করে আবার বাড়াব। কিন্তু, দেখাব যে, আগে ও-ই ছিল। বিদ্যুৎ শতভাগ থেকে কমিয়ে ওই ২৮ ভাগে নিয়ে আসব। সবাই একটু টের পাক, আগে কী অবস্থা ছিল। আমরা তো ভুলে যাই।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে বলছিলাম, প্রতিদিন যেন কিছুটা লোডশেডিং দেয়। তাহলে মানুষের একটু মনে থাকবে, লোডশেডিং আছে। তখন পয়সা দিয়ে তেল কিনে জেনারেটর চালাতে হবে। তখন আবার আক্কেলটা একটু ঠিক হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তো আমরা করে দিচ্ছি, ভর্তুকি দিচ্ছি। কেন আমি ভর্তুকি দেব? বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেছে সবাই। আর ভর্তুকির সুযোগ নিচ্ছে বিত্তশালীরা। সেখানে একটা স্লট ঠিক করব এখন থেকে। কত পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে, তাদের এক দাম; আর তার থেকে বেশি যারা ব্যবহার করবে তাদের জন্য আলাদা দাম। ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি ওভাবে একটা স্লট করে দিতে। যে বেশি ব্যবহার করবে, তাকে বেশি দামে কিনতে হবে। আর আমাকে বেশি কথা বললে, সব বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকব।’