সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ নভেম্বর, ২০২৩
বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংলাপকে জরুরি বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দেশটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এসব কথা জানিয়েছেন।
ম্যাথিউ মিলার বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সবার। সব রাজনৈতিক দল, ভোটার, সরকার, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের। আর আমরা বাংলাদেশে যা চাই, বাংলাদেশের জনগণও তা-ই চায়। সেটি হলো, শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
আরেক প্রশ্ন ম্যাথিউ মিলারকে করা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপ আহ্বানের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যদি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপে বসেন, তারপর তিনি বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন কি না, সে বিষয়ে ভাববেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি এবং তার প্রশাসন বিরোধীদের ওপর ব্যাপক আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। আজ (গতকাল মঙ্গলবার) পুলিশের গুলিতে বিরোধীদলীয় দুই নেতা নিহত হয়েছেন, গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে। এরই মধ্যে ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন (বিএনপির) দুই শীর্ষ নেতা। প্রতিদিনই তারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। তাহলে আপনি কীভাবে বিশ্বাস করবেন যে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে?
জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘আপনার প্রশ্নের প্রথম অংশের বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে এটি বলতে চাই যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা আগে যে লক্ষ্যগুলো উল্লেখ করেছি, আমরা বিশ্বাস করি যে সেই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ।’
মিলার আরও বলেন, ‘আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে আমি বলতে চাই, আমরা জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং সহিংসতার ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি। আমরা সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের সুবিধার জন্য, শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাদের একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাতে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমরা তা চালিয়ে যাব।’
ম্যাথিউ মিলারকে প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সহকারী প্রেস সেক্রেটারি মুশফিকুল ফজল আনসারী। মুশফিকুল বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক হিসেবে প্রশ্ন করার সুযোগ পান।