সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের কাছে বোয়িং কেনা-বেচার সঙ্গে নির্বাচন, নিষেধাজ্ঞা বা ভিসানীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি জানিয়েছেন ফ্রান্সের কাছ থেকে এয়ারবাস কেনার সংবাদ প্রকাশের পর মার্কিন কোম্পানি বোয়িং বাংলাদেশের কাছে আরও সস্তায় উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে।
কাতার সফরশেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. মোমেন বলেন, বড় দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা সবসময় তাদের দেশের জিনিস কেনার জন্য রীতিমতো পীড়াপীড়ি করেন। এটা তাদের দায়িত্বের অংশ। আমরা এটা নিয়ে রাগ করছি না। আপনি গ্রহণ করলে ভালো না করলেও সমস্যা নেই।
নির্বাচনের আগে বোয়িং উড়োজাহাজ নিয়ে পিটার হাসের দৌড়ঝাঁপ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবটি অনেক দিন আগের। বাংলাদেশ বোয়িং কিনতে চাচ্ছে, কারণ আমাদের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ তার বিমানের বহরে কিছু বৈচিত্র্য আনতে চায়, তাই ১০টি এয়ারবাস কিনব। ১০টি এয়ারবাস কেনার খবর বের হলে বোয়িং প্রস্তাব দিয়েছে আরও সস্তায় উড়োজাহাজ বিক্রির।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেনা-বেচার সঙ্গে নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য কোনো বিষয় জড়িত কি-না, জানাতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘কেনা–বেচা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে অনুরোধ করে। আর অনুরোধকে চাপ মনে করি না।’
ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে কি-না, উত্তরে তিনি বলেন, কোনো টানাপোড়েন নেই। এগুলো গণমাধ্যমে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি আদর্শ দেশ। আমাদের দেশে মসজিদে, ক্লাবে, শপিংমলে আক্রমণে মারা যায় না। আমরা কোনো বিরোধীদলকে হয়রানি করছি না, নির্যাতন করছি না। আমরা যারা সন্ত্রাসী, যারা মানুষের বাড়ি-ঘর জ্বালায়, জনগণের সম্পত্তি; বিশেষ করে, বাস, ট্রেন, ট্রাক জ্বালায়, যারা মানুষকে মারছে তাদের আমরা শাস্তির আওতায় নিচ্ছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক কারণে কাউকে হয়রানি করছি না। আমরা যাদের গ্রেপ্তার করছি তারা হচ্ছে- সন্ত্রাসী।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর দাবি করে বলেন, তারা বন্ধু বলেই আমাদের উপদেশ দেয়। যেটা ভালো মনে হয় আমরা গ্রহণ করি, যেটা ভালো মনে হয় না আমরা গ্রহণ করি না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ঘানায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ যৌথভাবে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ওপর বেশ খুশি। আর সম্পর্কে যে অস্থির কথা বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনায় তোলা হয়নি। আমরা চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্রও এটাই চায়।’
গত ৫ বছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতা রয়েছে কি-না, জানা নেই। রোহিঙ্গা আমাদের ব্যর্থতা নয়। যেকোনো সময় আশা করি, রোহিঙ্গা ফেরত যাবে। শুধু বাংলাদেশ বা মিয়ানমার চাইলেই রোহিঙ্গা ফেরত যাবে না, অন্যান্য বহু প্রতিষ্ঠান অনেকই চায় না রোহিঙ্গারা ফেরত যাক। রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে চায়। একবার যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলো। তখন বিদেশিরা বলল, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে পাঠায়েন না, তাদের (রোহিঙ্গাদের) আমরা (বিদেশিরা) নিয়ে যাব। এরপর অল্প কয়েকজন রোহিঙ্গা নিয়েছে। এ জন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ধীরগতি হয়েছে।’