Sylhet Today 24 PRINT

নির্বাচন হয়ে গেলেও ভিসানীতির পরিবর্তন হয়নি: বেদান্ত প্যাটেল

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ জোরালোভাবে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচনের পরও সেই ভিসানীতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নতুন করে বাংলাদেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নই উঠেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি, স্থানীয় সময়) বাংলাদেশ ইস্যুতে করা প্রশ্নে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানান স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপমুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল।

বাংলাদেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে তবে তাতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি এমন অভিযোগ করে সাংবাদিক জানতে চান, যারা নির্বাচনকে ক্ষুণ্ন করেছে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের থ্রি-সি ভিসানীতির অধীনে ভিসা বিধিনিষেধের অবস্থা কী?

জবাবে বেদান্ত বলেন, ভিসানীতি এবং তা পরিবর্তনের বিষয়ে নতুন কোনো খবর আমার কাছে নেই। এই ভিসানীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভিসানীতির বিষয়টি এমন নয় যে, নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে আর তাই সূর্য ডুবে গেছে।

এরপরও সাংবাদিক সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চান, ভিসা নিষেধাজ্ঞা কি এখনো চলমান কিনা?

জবাবে বেদান্ত বলেন, হ্যাঁ। ভিসানীতি প্রয়োগে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বেদান্ত প্যাটেলকে প্রশ্ন করা হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মামলার বিষয়েও। বেদান্ত প্যাটেল বলেছেন, ড. ইউনূসের জন্য ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করব, এটাই আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) আশা করি। কারণ, (শ্রম আইন লঙ্ঘনের এই মামলায়) আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

বেদান্ত প্যাটেলকে করা প্রশ্নে বলা হয়, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেছেন বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর আরেক ব্যক্তি। আদালতের আরেকটি আদেশে তার বিদেশ ভ্রমণের ক্ষমতা সীমিত করছে সরকার। ১২৫ জন নোবেলজয়ীসহ ২৪৩ জন বিশ্বনেতাদের একটি জোট মুহাম্মদ ইউনূসের বিচারিক হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেনেটর ডিক ডারবিনের নেতৃত্বে ১২ জন দ্বিদলীয় মার্কিন সিনেটর সব হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কীভাবে দেখছে?

ওই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপ্রধান মুখপাত্র আরও বলেন, অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, ড. ইউনূসকে ভয় দেখানোর উপায় হিসেবে এই মামলাগুলো বাংলাদেশের শ্রম আইনের অপব্যবহারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

এর আগে গত ১ জানুয়ারি স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশটির উদ্বেগের কথা জানান। নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে।

ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমি দুটি বিষয়ে কথা বলতে চাই। প্রথমটি হলো, গ্রেপ্তার সবার জন্য একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান। আর দ্বিতীয়টি হলো, বাংলাদেশ সরকারকে বিরোধী দলের সদস্য, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নাগরিক জীবনে অর্থপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.