Sylhet Today 24 PRINT

১৪ জনের জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২১ জানুয়ারী, ২০১৬

সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৪ জনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণের পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরের মোস্তফা মার্কেটের পাশে এ্যাঙ্গুলিয়া নামক একটা মসজিদে নিয়মিত একত্রিত হতো। প্রতি রোববার তারা সেখানে সমবেত হয়ে  জিহাদি বয়ান, ওয়াজ ও জিহাদি ভিডিও দেখতো। সেখানেই তারা সদস্য ও অর্থ সংগ্রহ এবং জিহাদি বই প্রকাশনাসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।’

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে।  

আটকদের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, সিঙ্গাপুর পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তাদের আটক করে। তাদের বাসা তল্লাশি করে মোবাইল ফোন জব্দ করে। তাদের মোবাইলে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীম উদ্দিন রাহমানী, ড. জাকির নায়েক, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, শায়েখ মতিউর রহমান মাদানী, আমান উল্লাহ বিন ইসমাইল এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর ওয়াজ পাওয়া গেছে।

তারা জানিয়েছে, আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে। বাংলাদেশ থেকেও আনসারুল্লাহর নেতারা সিঙ্গাপুরে যেতেন তাদের জিহাদি কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে ২০/২৫ দিন রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।  এরপর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা যেন সিঙ্গাপুরে আর প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তাদের ‘রেডলিস্টভুক্ত করে রেখেছে সেদেশের সরকার।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জঙ্গিরা ২ থেকে ৮ বছর ধরে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। তারা ‘লা-মাযহাব’, অর্থাৎ কোনো মাজহাব অনুসরণ করে না। তারা জসীম উদ্দিন রাহমানী, আবুল কালাম, ড, জাকির নায়েক প্রমুখ ব্যক্তিদের বক্তৃতা শুনে আহলে হাদিসের অনুসারী হন।

তারা জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সহযোগিতার কথা বলে এবং মসজিদ মাদ্রাসার নামে তারা নিয়মিত চাঁদা ওঠাতো। এই টাকা তারা বাংলাদেশে জিহাদি বই প্রকাশের জন্য পাঠাতো। এদের মধ্যে বৈঠকে নিয়মিত বয়ান করতো আমিনুর, নুরুল হক ও আশরাফ। বয়ানে তারা জিহাদ, আল্লাহর রাস্তায় আত্মোৎসর্গ করা এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতো সদস্যদের।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এরা সকলেই জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে আরো সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।’

ফেরত জঙ্গিরা হলেন, মো. জাফর ইকবাল, গোলাম জিলানী, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নুরুল আমিন, মাহমুদুল হাসান, মো. আমিনুর, আব্দুল আলিম, মো. শাহ আলম, আকরাম হোসেন, আলম মাহাবুব, আব্দুল আলী, পারভেজ ডলার, মো. জসীম, মো. আশরাফুল। বাকি ১৩ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.