Sylhet Today 24 PRINT

উৎপাদন খরচের চেয়ে নিলাম মূল্য কম, সংকটে চা শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৭ মে, ২০২৪

উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয় মূল্য কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে সিলেটের চা-বাগানগুলো। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈরি আবহাওয়া। গত কয়েকদিনের অতিরিক্ত গরমে চা বাগানগুলোতে রেড স্পাইডারের আক্রমণ বেড়েছে।

চায়ের নিলাম বাজারে দাম না ওঠায় বাগান মালিকরা এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।  নিলাম বাজারে প্রতি কেজি চায়ের মূল্য ন্যূনতম ৩০০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি তাদের। বর্তমানে নিলাম মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। তাই অনেক বাগান মালিক শ্রকিদের মজুরি দিতে পারছেন না।

বর্তমানে প্রতিকেজি চা নিলামে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে বাগান মালিকরা বলছেন, কেজি প্রতি চায়ের উৎপাদন খরচ ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।

নিনা আফজাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ  ও বালিসিরা হিল টি কো লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশিদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাগান মালিকদের প্রতিনিধিদল, চা-শিল্পে বিরাজমান সংকট উত্তরণে গত বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার ও সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী  বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

অন্যদিকে হবিগঞ্জের বেশ কয়েকটি বাগান সংশ্লিষ্টরা  জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের তীব্র রোদে অনেক বাগানের পাতা মৃয়মাণ। নালুয়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক ইফতেখার এনাম বলেন, গত বছর যে সময়ে ২৮ হাজার কেজির মতো পাতা সংগ্রহ করা হয়, এ বছর এই সময় মাত্র ৮ হাজার কেজি পাতা সংগ্রহ হয়। খরায় চা উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। গাছের কুঁড়ি শক্ত হয়ে যাওয়ায় পাতা তোলা যাচ্ছে না। চা উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ‘অতি গরমে চা-বাগানের অবস্থা নাজুক’ বলেন, আমু চা-বাগানের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গরমে মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। উৎপাদনও কমেছে।

দেশে ১৬৮টি বাগানের মধ্যে সিলেটেই ১৩৮টি বাগান রয়েছে। গত বছর দেশের ১৭০ বছরের ইতিহাস ভেঙে সারা দেশে ১০ কোটি ২৯ লাখ কেজি চা-উৎপাদন হয়। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নর্থ সিলেট ভ্যালী বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নোমান হায়দার চৌধুরী বলেন, বর্তমানে শিল্পটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

বাগান মালিকরা বলেন, ছোট-বড় প্রায় সব বাগানই কৃষি ব্যাংক থেকে হাইপোথেটিক লোন নিয়ে থাকে। চায়ের নিলাম মূল্য সরাসরি কৃষি ব্যাংকে জমা হয়ে তা পরিশোধ করা হয়। ঋণ পরিশোধের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে বর্তমানে ১৩ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় তা পরিশোধ করা বাগানগুলোর পক্ষে অসম্ভব।

বাগান মালিকদের দাবি, বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পরিশোধের সুদের হার ৯ শতাংশ রাখতে হবে। তাছাড়া সহজ শর্তে রুগ্ণ বা গড়ে উঠছে এমন বাগানের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার জন্যও তারা দাবি জানিয়েছেন। চা-শিল্পের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে এই শিল্পের ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রয়োজন। বাগান মালিকরা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চা-আমদানির জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। চা-শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করে চা-আমদানি নিরুত্সাহিত করা জরুরি।

স্মারকলিপিতে বাগান মালিকরা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে চা উৎপাদনের কোনো নিয়মনীতি না মেনে খুবই নিম্নমানের চা উৎপাদিত হচ্ছে। ফ্যাক্টরি থেকে ট্যাক্স-ভ্যাট পরিশোধ না করে অবৈধভাবে চা বিক্রি হচ্ছে। এই নিম্নমানের চা বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানসম্মত চায়ের নিলাম বাজারে যথাযথ মূল্য পাওয়া থেকে বাধার সৃষ্টি করছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.