সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ আগস্ট, ২০২৪
আগামী সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে সেই আলোচনা স্থগিত করেছে ইউরোপের ২৭ দেশের এই জোট।
বুধবার (৩১ জুলাই) ব্রাসেলসের ইইউ সদর দপ্তর এ কথা জানায়। তবে নতুন তারিখ এখনো ঠিক হয়নি বলেও জানিয়েছে জোটটি।
অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গেই আছে ইইউর। চুক্তির আওতায় ইইউ দেশগুলো অর্থনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে থাকে।
গত বছরের ২৫ অক্টোবর ব্রাসেলসে চুক্তিটির আলোচনা শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ফন ডার লিয়েন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ৪০ কোটি ইউরো অর্থায়নের লক্ষ্যে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাসের লক্ষ্যসমূহ অর্জন ও দেশের বিদ্যুৎ খাতের পরিবেশসম্মত টেকসই রূপান্তরের জন্য এই অর্থ খরচ করার কথা।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাবদ ৭ কোটি ইউরোর চুক্তিও সই করে বাংলাদেশ ও ইইউ। এ পাঁচটি ক্ষেত্র হলো শিক্ষা, শোভন কাজ, পরিবেশসম্মত নির্মাণশিল্প, ই-গভর্ন্যান্স ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধ।
গত মঙ্গলবার ইইউ জোটের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি জোসেফ বোরেল এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত বেআইনি হত্যা ও ঘোষিত দেখামাত্র গুলির যে নীতি বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া দায়ীদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
জোসেফ বোরেল বিক্ষোভ দমনে সরকারি বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমি আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের হত্যা, সহিংসতা, নির্যাতন, গণগ্রেপ্তার এবং সহায়-সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
জোসেফ বোরেল আরও বলেন, ‘ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের মৌলিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের এই কঠিন সংকটের প্রেক্ষাপটে এ দেশের সরকার তথা কর্তৃপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ ইইউ ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করবে। পাশাপাশি ইইউ আশা করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবশ্যই মানবাধিকারের প্রতি সম্পূর্ণভাবে সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’