সিলেটটুডে ডেস্ক | ২০ অক্টোবর, ২০২৪
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আহাদুল ইসলামকে গুলি ও মারধরের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন জেড আই খান পান্নার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর জেড আই খান পান্নাসহ ১৮০ জনকে আসামি করে খিলগাঁও থানায় মামলাটি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর মামলাটি করেন আহাদুলের বাবা মো. বাকের (৫২)। মামলায় বিজিবির বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আহাদুলসহ অন্যরা মেরাদিয়া বাজারের কাছে বিক্ষোভ করছিলেন। তখন নাম না জানা বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অন্য আসামিদের নির্দেশে গুলি চালায়। এ সময় আহাদুল গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে থাকা আসামিরা তাকে মারধরও করে। পরে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওসি দাউদ হোসেন বলেন, আহাদুল ইসলামের বাবা মো. বাকের বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন জেড আই খান পান্নাসহ মোট ১৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে দেখছি আমরা।
সম্প্রতি 'রিসেট বাটন' বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্য এবং হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের নিয়ে সমালোচনা করেছেন জেড আই খান পান্না। তার মতে, এসব মামলার উদ্দেশ্য মানুষকে হয়রানি করা, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গত ২৬ ও ২৭ জুলাই নিরাপত্তার অজুহাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর ২৮ জুলাই ওই সমন্বয়কদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে ভাত খাওয়ার কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। আর এই ছবি দেয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার শুরু হলে উচ্চ আদালতে জোরালো ভূমিকা পাওন করে জেড আই খান পান্না। সমন্বয়কদের মুক্তি ও আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। আর এই রিটের আইনজীবী ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই পান্না।