সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে রূপালী ব্যাংকের একটি শাখায় ডাকাতির উদ্দেশে ঢুকে পড়া তিনজন আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা, চারটি খেলনা পিস্তল ও দুটি দেশীয় ছুরি পাওয়া যায়।
আত্মসমর্পণকারী ডাকাতরা হলো মো. লিয়ন মোল্লা নিরব (২২), এবং অপর দুইজন ১৬ বছর বয়েসি। তিনজনই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা। নিরবের কাছে পাওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে জানা যায়, তার নিজ জেলা গোপালগঞ্জ।
তবে আটক তিনজন এক মুমূর্ষু কিডনি রোগীকে ১৫ লাখ টাকা সাহায্য করা এবং বাকি তিন লাখ টাকা দিয়ে আইফোন কেনার জন্য এই ডাকাতি করতে যায় বলে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আহম্মদ মঈদ।
এসপি বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ চুনকুটিয়া জিনজিরা শাখার রূপালী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা করেন তিন কিশোর। আটক করার পর তাদের হাতে ১৮ লাখ নগদ টাকা ও চারটি খেলনা পিস্তল ও দুটি দেশীয় ছুরি পাওয়া যায়। ডাকাতরা মুভি দেখে এমন একটি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে ডাকাতি করতে আসে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। তবে তাদের অপরাধী বলা যায় না। তারা হয়তো মিস গাউডেড।
তিনি বলেন, এক কিডনি রোগীকে সাহায্য করতে তাদের ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল। এ কারণে তারা ব্যাংকে ডাকাতি করতে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। বাকি তিন লাখ টাকা দিয়ে আইফোন কেনার কথা জানায় তারা। তবে তারা যে রোগীর ঠিকানা দিয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই চলছে। আদৌ সত্য কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
আটক তিন ডাকাত ছাড়া বাইরে তাদের কোনো সদস্য ছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের তিনজন ছাড়া বাইরে কেউ ছিল না। তবে তারা প্রাথমিকভাবে আমাদের বলেছিলেন বাইরে তাদের লোক আছে। তারা পুলিশকে ভয় দেখানোর জন্য বলেছিলেন তাদের আরও লোক আছে।
এর আগে বেলা ২টার দিকে ব্যাংকের ভেতরে ডাকাত দল হানা দেওয়ার খবর পেয়ে এলাকাবাসী জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে ব্যাংকে ডাকাত দলের প্রবেশের বিষয়টি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়।
এ সময় এলাকাবাসী ব্যাংকটির চারপাশ ঘেরাও করে প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। বিকেল ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা ব্যাংকটির আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে।
ব্যাংকে ডাকাত দলের হানা দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংক-সংলগ্ন মূল সড়কের উভয় পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনজন। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।