Sylhet Today 24 PRINT

উপদেষ্টা আসিফকে ‘প্রকাশ্যে ক্ষমা’ চাইতে বললেন ইশরাক

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৫ জুন, ২০২৫

স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির নেতা ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ইশরাক হোসেন। উপদেষ্টার একটি মন্তব্যকে ‘ঢাকা নগরবাসীর জন্য চরম অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে এমন আহ্বান জানান ইশরাক।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্ষমা না চাইলে বা নিজের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ হাজির করতে না পারলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য উপদেষ্টাকেই দায়ী থাকতে হবে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে দেওয়া আসিফ মাহমুদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক বলেন, “স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অত্যন্ত আপত্তিকর কিছু কথা বলেছেন। আসিফ বলেছে, ‘বিএনপির এক নেতার ইন্ধনে ইশরাকের আন্দোলন হয়েছে’।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার ঢাকার ভোটারদের চরম অপমান করা হয়েছে। একটি বাক্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে নাগরিকদের পশুর মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটার জন্যে তাকে অবশ্যই নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”

তিনি বলেন, “আসিফ আরেকটা কথা বলেছে যে, ইশরাককে ‘মিসগাইড’ করা হয়েছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। তিনি নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং আমাকে চরমভাবে হেয় করেছেন। আমাদের ঢাকা নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনকে এইভাবে অপমান করার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

উপদেষ্টার কাছে থাকা ‘প্রমাণ’ জাতির সামনে তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইশরাক বলেন, “আসিফ বলেছেন, আমাকে তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার একটি উপজেলার জনৈক বিএনপি নেতা আন্দোলনে প্ররোচনা ও অর্থ দিয়েছেন এবং তার কাছে নাকি প্রমাণ আছে। এই প্রমাণ তিনি জাতির সামনে তুলে ধরবেন, অন্যথায় তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানেই তিনি থেমে থাকেন নাই। তিনি বলেছেন, বিএনপির একটি অংশের সরকারের সাথে বোঝাপড়ার দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণে আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বিএনপির মতো ঐতিহ্যবাহী, পুরোনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে হেয় করেছেন এবং একটি অসত্য অভিযোগ তুলেছেন। তিনি নিজেকে বিশাল কোনো মহামানব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। উনি হয়ত ভুলে গেছেন, ওনার জন্মের আগে বিএনপির জন্ম হয়েছে।”

‘সরকার উচ্চ আদালত অবমাননা করছে’

উপদেষ্টার একটি বক্তব্যকে ‘আদালত অবমাননার শামিল’ বলে মন্তব্য করেন ইশরাক।

তিনি বলেন, “আসিফ মাহমুদ বলেছেন, সরকার কোনো নির্বাচনকে বৈধতা দেবে না। এটা কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে এবং কবে? এখন পর্যন্ত তারা কোন কোন নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করতে পেরেছে? একটিও না। এর অর্থ এই দাঁড়ায়, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক বৈধতা বহাল রাখা গেজেটকে সরকার বৈধতা দিচ্ছে না বা মানছে না। সেটা সরকার কর্তৃক উচ্চ আদালত অবমাননার শামিল নয় কি?”

ইশরাক প্রশ্ন রাখেন, “এই একই আদালত বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ১০৬-এর ধারা অনুযায়ী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধতা দেয়নি? বরঞ্চ উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচন ২০২০ আমাদের মামলা ও রায়ের মাধ্যমে তৎকালীন নির্বাচনটির ফলাফল অবৈধভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল সেটিই প্রমাণিত হয় এবং ফলাফল সংশোধনের মাধ্যমে সেটি আরও বেশি সুদৃঢ় হয়েছে।”

একই সঙ্গে কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়া ওয়ার্ড সচিব হিসেবে ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এটি আইনত এবং সরকার পরিচালনার যেকোনো মানদণ্ডে অবৈধ। এরা কারা এবং কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে, এই প্রশ্ন নগরবাসীর পক্ষ থেকে আমি করছি। এই অভিযোগ সত্য হলে এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।”

নগর ভবনে হামলা ও দুর্নীতির অভিযোগ

নগর ভবনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের দায়ী করে ইশরাক বলেন, “এরা কেউ কেউ নিজেদের বিএনপি ঘরানার পরিচয় দিলেও তারা দলের কোনো পদে নেই। উপরন্তু তারা আওয়ামী আমলের মেয়রদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে দুর্নীতি ও লুটপাট করেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “তাদের মূল হোতা, গতকালকে আন্দোলনকারীদের হত্যাচেষ্টাকারী গোলাম কিবরিয়া রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর রুবেল তার লুটপাটের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল বলে নগর ভবনের আনাচে-কানাচে কথা হচ্ছে। তাই মরিয়া হয়ে রুবেল গংকে নগর ভবনে পুনর্বহাল করার জন্যে এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করা হয়েছে।”

ইশরাক আরও বলেন, “প্রকৌশল বিভাগের কুখ্যাত রুবেল একদিনও আন্দোলনে ছিল না, কিন্তু নিজেকে বিএনপি সমর্থক দাবি করে। তদবির করে কাজ ভাগাভাগির মাধ্যমে অবৈধ অর্থনৈতিক সুবিধা করে দেয় এনসিপি ও রাজনৈতিক কিছু নেতাদের। সে শুরু থেকেই আন্দোলনকারীদের বিরোধিতা করেছে। গোপন সূত্রে জেনেছি, আন্দোলনের এক পর্যায়ে কৃত্রিম গোলযোগ সৃষ্টি করে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর মাধ্যমে আমাকেসহ আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। কথিত আছে, সে এনসিপিতে যোগদান করেছে বা করবে।”

আসিফকে ইশরাকের হুঁশিয়ারি

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে সতর্ক করে ইশরাক বলেন, “আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্য ও কথাবার্তার লাগাম টেনে ধরবেন এবং বর্তমানে যে স্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে, তা বিনষ্ট করবেন না। কারো প্ররোচনায় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিষয়ে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের চিন্তাও করবেন না। এটা একটা সতর্কবার্তা হিসাবে দিচ্ছি।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এর ব্যত্যয় নগরবাসী মেনে নেবে না এবং পুনরায় আন্দোলন শুরু হলে তা নগর ভবনের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে গড়াবে। সেটি উচিত হবে না।”

‘শপথ গ্রহণ ছিল আনুষ্ঠানিকতা’

নিজের মেয়র পদে শপথ গ্রহণকে ‘আনুষ্ঠানিকতা’ উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, “এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে মেয়র পদে বসে নগর পরিচালনা করার পরিকল্পনা আমার ছিল না। আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শক্রমে অবৈধ তাপসের বিরুদ্ধে পাওয়া রায়টি একটি স্থায়ী দলিল হিসাবে প্রতিষ্ঠার জন্যে এবং আইনের শাসনের চূড়ান্ত বিজয়ের একটি প্রমাণ হিসাবে রাখতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপ এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, যা কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”

তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া পদে পদে বাধাগ্রস্ত করতে গিয়ে শেষ বেলায় অন্তর্বর্তী সরকার যে দলনিরপেক্ষ নয়, আমাদের সেই বয়ানটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পরাজয় ঘটেছে এই সরকারের নিরপেক্ষতার পর্দার আড়ালে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা অগণতান্ত্রিক শক্তির। ভেস্তে গিয়েছে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে বিনা ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার কোনো সম্ভাব্য দেশি-বিদেশি চক্রান্ত।”

কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, “জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সেবা সচল করার জন্যে ২৩ জুন নগর ভবন কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হয়েছে। সরকার জনগণের ন্যায্য দাবি এবং আইন-আদালতকে পরোয়া না করে দিনের পর দিন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রেখেছে। এই দুর্ভোগ নিরসনে জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে আমরা সবাইকে নিয়ে সকল জরুরি সেবা চালু রাখি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ঈদের পর নগর ভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দৈনন্দিন সকল সেবার কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও সচিব আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে জন্ম, মৃত্যু, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ দিতে বারণ করেন। জানা যায়, জনগণকে সুবিধাবঞ্চিত করে এর দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল তারা। সেই চক্রান্ত রুখে দিতেই কর্মবিরতি তুলে নগর ভবন উন্মুক্ত ও আঞ্চলিক কার্যালয় সচল করা হয়েছে।”

তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সীমিত পরিসরে, সেবা প্রার্থীদের কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে আন্দোলনকারীরা প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে যাবে।”

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.