সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অপরাধে সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) বহুল আলোচিত ৫৭ ধারায় দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার বাদি হলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেন।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালতে মামলা দু’টি দায়ের করা হয়। তবে মামলা দুইটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আদালত।
৫৭ ধারার মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। পরে এ ব্যাপারে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রনি কুমার দে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি বিকৃতির অপরাধে এম এ লতিফের বিরুদ্ধে ১২৪/এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। পরে এ ব্যাপারে আদেশ দেবেন বলে আদালত জানিয়েছেন।
এর আগে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অপরাধে লতিফের বিরুদ্ধে আরও দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি এক হাজার কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে এম এ লতিফের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উপ-কমিশনার পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
একইদিন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহিম জিল্লু বাদি হয়ে লতিফের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১১ আসনের (বন্দর, হালিশহর ও পতেঙ্গা) সাংসদ এম এ লতিফ বন্দরনগরীর বিভিন্ন স্থানে ফেস্টুন লাগিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির মুখমণ্ডলের সঙ্গে লতিফের নিজের শরীর জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হয় ফেস্টুনগুলো।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লতিফের ছবিতে জুতা-থুথু নিক্ষেপ করে এবং মানববন্ধন ও সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লতিফ সংবাদ সম্মেলন করে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির কথা স্বীকার করলেও দায় চাপিয়েছেন ডিজাইনারের উপর।