সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে আঘাত করা গুলিটি মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক।
তার মাথায় অস্ত্রোপচার চালানো চিকিৎসক অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেছেন, হাদির অবস্থা ‘খুবই খারাপ’। তার বিষয়ে আশার কোনো কথা বলতে পারছেন না তারা।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় হাদিকে।
এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, “হাদির দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। এই রোগীর বিষয়ে আমরা আশার কোনো কথাই বলব না।
“উনি সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থায় আছেন, কিন্তু বেঁচে আছেন এখনো। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।”
তার খুলি খুলে রাখা হয়েছে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, “এ ধরণের ক্ষেত্রে আমরা খুলি খুলে ফেলে মগজের ভেতরের রক্তটা বের করে দিই, যেন মগজের ভেতরে যে চাপটা আছে, তা কমার সুযোগ পায়, ব্রেইন বড় হওয়ার সুযোগ পায়। এটাই এ ধরনের রোগীর ম্যানেজমেন্ট। ওই অস্ত্রপচার করে ভালো আইসিইউ সাপোর্টের জন্য স্বজনদের মতামতের ভিত্তিতে এভারকেয়ারে পাঠানো হয়।”
গুলিটা কী ভেতরে রয়ে গেছে, নাকি বেরিয়ে গেছে জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, “খুব সম্ভবত বেরিয়ে গেছে। আর গুলি যদি মগজের ভেতরে রয়ে যায়, ওটা একদম মগজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সেখানে ‘অ্যাপ্রোচ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, ওটা করাও হয় না।
“গুলি মূলত ডানদিক দিয়ে ঢুকছে; গুলিটা ডান দিক থেকে করা হইছে, বামদিক দিয়ে বের হয়ে গেছে।"
তিনি বলেন, “আমরা মনে করছি, বুলেটটা হাড্ডি ভেঙে বেরিয়ে গেছে। বুলেটের কিছু ছোট ছোট অংশ মাথার ভেতর রয়ে গিয়েছিল। আমরা যখন অস্ত্রোপচার করেছি, তখন আমরা সেগুলো বের করেছি, সংরক্ষণও করেছি।”
তার অবস্থা খুবই খারাপ জানিয়ে অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, “তার ওভারঅল কন্ডিশন খুবই খারাপ। আমরা যখন তার অস্ত্রপচার করি তখন তার ভাই, যিনি গুলিবদ্ধ হওয়ার সময় সঙ্গেই ছিলেন, তিনি ভাবছিলেন হাদি মারা গেছে। কিন্তু সে এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু খুব ক্রিটিকাল।
“অপারেশনের জন্য যখন তাকে এনেস্থেসিয়া দেওয়া হচ্ছিল, তখন তার শরীর সাড়া দিয়েছে বলে এনেস্থেসিয়ার ডাক্তার জানিয়েছেন।”
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাদি।
মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রাখার কথা জানান হাসপাতালের পরিচালক।
ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।”
হাদির একজন সহযোদ্ধা বলেন, জুমার নামাজের পর মসজিদে তাদের লিফলেট বিলি কর্মসূচি ছিল। কথা ছিল লিফলেট বিলি শেষে সবাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হয়ে দুপুরের খাবার খাবেন, আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই হাদির ওপর হামলার খবর আসে।
হাদিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের সামনে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী।
জুমার নামাজের আগে বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে হাদি ফেইসবুকে লেখেন, “যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।”
ঢাকা-৮ আসন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। তিনি এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বিকাল ৪টার দিকে হাদিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে আসেন।
জামায়াত থেকে এ আসনে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন। আর বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটি থেকে সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওসমান হাদির হাত ধরে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। ‘সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ’ সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ওসমান হাদি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বলেন, “এই রায় পুরো পৃথিবীর জন্য নজির স্থাপন করেছে।”
গত জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বলেছিলেন, বিএনপি যদি ‘পুরনো ধারায়’ রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসে, তবে তারা দুই বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। একই অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন হাদি।
এর বাইরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা এবং দৃশ্যত পরিবর্তনের ঘাটতির সমালোচনা করে একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন।