Sylhet Today 24 PRINT

কে এই আতাউর রহমান বিক্রমপুরী?

সোহেল আহমদ চৌধুরী |  ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

উগ্রপন্থী ধর্মীয় নেতা মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করে তিন মাসের আটকাদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক বার্তায় জানানো হয়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুরোধে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯০ দিনের আটকাদেশে তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, এটি একটি নির্বাহী আদেশ। সরকার যখন কোনো ব্যক্তিকে সমাজের জন্য বিপজ্জনক মনে করে, তখন বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাকে আটক করার এখতিয়ার রাখে।

পটভূমি ও পুরনো গ্রেপ্তার
আতাউর রহমান বিক্রমপুরী—যিনি আসাদুল্লাহ বা আতাউর নামেও পরিচিত—মুন্সিগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার আমতলী গ্রামের সন্তান। তিনি যশোরের ঝিকরগাছায় অবস্থিত মারকাজুল হুনাফা আল মুসলিমিন মাদ্রাসা ও হুনাফা ইসলামিক স্কুলের প্রিন্সিপাল।

পুলিশের তথ্যমতে, ২০২০ সালে ঝিকরগাছা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার অন্যতম আসামি তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জঙ্গিবাদের অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি আবারও আলোচনায় আসেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেন।

সংগঠন ও সাম্প্রতিক বিতর্ক
বিক্রমপুরী ‘আযাদী আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর আমির এবং ‘বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সচিব। গত অক্টোবরে গাজীপুরে হিন্দু যুবক কর্তৃক মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ এবং মুফতি মুহিবুল্লাহ মিয়াজীর কথিত ‘অপহরণ’ নাটক—উভয় ঘটনাতেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং সশরীরে থানায় গিয়ে পুলিশকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন। যদিও পরবর্তীতে পুলিশ জানায়, মুহিবুল্লাহর ঘটনাটি অপহরণ ছিল না।

সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর শাহবাগের বিক্ষোভেও তাকে সামনের সারিতে দেখা যায়। তবে অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা দূরত্ব বজায় রাখায় তিনি মাঝপথে কর্মসূচি শেষ করে চলে যান।

উগ্রবাদ ও সংবাদপত্রে হামলার অভিযোগ
ফ্যাক্টচেকার ও সাংবাদিক কদরউদ্দিন শিশিরের তথ্যের বরাতে জানা যায়, বিক্রমপুরী তার অতি উগ্র কথাবার্তার জন্য পরিচিত। ২০২১ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য হিসেবেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানা যায়। সবশেষ ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার নাম আসে। এমনকি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও ওই হামলার সমর্থনে পোস্ট দেখা যায়।

গ্রেপ্তারের আগে যা বলেছিলেন বিক্রমপুরী
গ্রেপ্তারের আগে মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার প্রসঙ্গে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। এই হামলায় তিনি এনসিপি ও জামায়াত নেতাদের উসকানিকে দায়ী করেছেন।

আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বলেন, আমাকে গ্রেপ্তার করেন। আমি দোষ স্বীকার করব। আমি দোষ স্বীকার করে, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেব। এবং সাথে ওই যারা, যারা-যারা উসকানি দিছে, যাদের পোস্ট দেখে আমরাও পোস্ট দিছি, সাদিকুর রহমান খানের পোস্ট দেখে আমরা পোস্ট দিছি; সারজিস আলমের পোস্ট দেখে আমরা পোস্ট দিছি; নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পোস্ট দেখে আমরাও পোস্ট দিছি। এখন সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করবেন, আমাকে কেন করবেন না? আর আমাদের যদি করেন, তাহলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কেন বাদ যাবে? সারজিস আলম কেন বাদ যাবে? শিবিরের নেতারা কেন বাদ যাবে? কেন, বাংলাদেশ মগের মুল্লুক পাইছেন, তাই না? আমাকে গ্রেপ্তার করেন; মব-এর উস্কানি তো আমরাই দিয়েছি। এইজন্য মানুষ গিয়ে মব করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কেন দিয়েছি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের দেখাদেখি দিয়েছি; সারজিস আলমদের দেখাদেখি দিয়েছি। সারজিস আলম যখন লিখেছে-বিপ্লবকে চূড়ান্ত করতে হবে, আর করার আক্ষেপ ছিল, তা করতে পারিনি, তা করতে হবে; নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-আল্লাহর কসম আবারও বলতেছি-- আমরা ডাইরেক্ট প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের নাম ধরে বলি নাই। তারাও যেমন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ দিয়ে পোস্ট দিছে, আমরাও এরকম ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ দিয়ে পোস্ট দিয়েছি। ভারতীয় আধিপত্যবাদের চিহ্ন যেন বাংলাদেশে না থাকে। জনগণ ভারতীয় আধিপত্যবাদে চিহ্ন বলতে যা বুঝে সেটা করছে জনগণ। জনগণ তা করছে। এখন ৫০০ লোকের নামে মামলা, গায়েবি মামলা, এগুলো তো হাসিনার কালচার। এগুলো তো ফ্যাসিস্টের কালচার। এগুলো নিয়ে আইছেন। যে প্রথম আলো, যে দিল্লি স্টার (ডেইলি স্টার) হাসিনাকে রক্ষা করতে কাজ করছে, আজকে তাদেরকে রক্ষা করার জন্য ইন্টেরিম লাগছে। ওসমান হাদি, আমার ভাই, আমার বিপ্লবের চেতনা, জুলাই জজবার প্রাণপুরুষ, আধিপত্যবাদ বিরোধিতার সবচেয়ে বড় প্রতীক, ওসমান হাদির খুনিদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারে না, কোথায় খুনিরা আছে, এটাও তোমাদের ইন্টেলিজেন্স শনাক্ত করতে পারে না, বাহ বাহ, প্রথম আলোতে সেজদা দিতে চলে গেছেন উপদেষ্টারা...

তিনি আরও বলেন, সারজিস আলম পোস্ট দিছে সে যায় নাই, নাহিদ গেছে... এই মব, এই মব যদি করে থাকে, সবার আগে এনসিপি নেতারা করছে; সবার আগে এনসিপি নেতাদের গ্রেপ্তার করেন। এরপরে শিবিরের নেতাদের গ্রেপ্তার করেন। এরপরে বিএনপির নেতাদের গ্রেপ্তার করেন...

বিক্রমপুরীর অভিযোগ যাচাই করা যায়নি
গ্রেপ্তার মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা যাদের উসকানিতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন, তা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি। এবং এ-প্রসঙ্গে এনসিপি, ছাত্রশিবির, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বিএনপি নেতাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.